‘নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মসমালোচনার প্রয়োজন ছিল’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২০

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, মাত্র চার দিন পূর্বে গত ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ‘কান্ট্রি রিপোর্টাস অন হিউম্যান রাইটস প্রাকটিসেস’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ‘২০১৮ সালের নির্বাচন অবাধ ও মুক্ত বলে বিবেচিত হয়নি। ব্যালট বাক্স ভরা, বিরোধী প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিরোধী দলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের হয়রানি, নির্বিচারে গ্রেফতার ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে।’ স্বভাবতই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর এ সকল অভিযোগ সম্পর্কে কমিশনের ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মসমালোচনার প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণী স্মরণ করি ভালোমন্দ যাহাই আসুক, সত্য রে লও সহজে।’

সোমবার রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় ঠিক করতে আয়োজিত এক বৈঠকে একথা বলেন তিনি।

এসময় মাহবুব তালুকদার বলেন, বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে সে সম্পর্কে নিজেদের বিবেকই উত্তর বলে দেবে। নির্বাচনী আইনের অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারিত্ব। নির্বাচনকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি আবশ্যক। নির্বাচনকালে নির্বাচন অবশ্যই কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কারণ স্বনিয়ন্ত্রণই নির্বাচন কমিশনের মূলকথা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিষ্ঠা। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। সুতরাং সংবিধানে প্রদত্ত স্বাধীনতা ও ক্ষমতা দিয়ে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের বাছাই করা কমিশনের কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনারা কমিশনের সহযোগী। অবাঞ্ছিত অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন হেলে পড়লে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই পবিত্র দায়িত্ব যথাযোগ্যভাবে সম্পন্ন হতে পারে না। আমরা অবশ্যই গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে চাই না। বিপন্ন গণতন্ত্র নিয়ে কোনো জাতি আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারে না।

মাহবুব তালুকদার বলেন, বর্তমান কমিশনের তিন বছরের কার্যকালে এই প্রথম প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিগত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচনী প্রচারের বিকল্প ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে এই উপনির্বাচনের প্রার্থীগণ নতুন পদ্ধতিতে প্রচারাভিযান চালাতে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর দিয়েছেন। এই সমঝাতোয় আছে নির্বাচনী এলাকায় যত্রতত্র পোস্টার না টানানো, শব্দদূষণ রোধ, নিয়ন্ত্রিতভাবে মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, পদযাত্রা ও শোভাযাত্রা সীমিত রাখা, রাস্তায় পথসভা থেকে বিরত থাকা, তোরণ নির্মাণ বা ফুটপাতে ক্যাম্প না করা ইত্যাদি। এই সমঝোতা স্মারক একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এর বাস্তবায়ন সফল হলে দেশের অন্যান্য নির্বাচনগুলোতে এই ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনটি উপনির্বাচন হলেও এটি কেবল রাজধানীবাসী নয়, দেশবাসী, এমন কি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টির সম্মুখে রয়েছে। আমরা কি এই নির্বাচনটিকে একটি আদর্শ নির্বাচন হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরতে পারি না? যদি তা করতে হয়, তবে আপনাদের সহযোগিতায়ই তা করতে হবে। এ বছর পুলিশ বাহিনী ‘জনতার পুলিশ’ হওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যান্য বাহিনীও একই আদর্শে অনুপ্রাণিত হলে এই উপনির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন ভাবমূর্তি নির্মাণ করতে পারি। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা আমরা বারবার বলি। আসুন একটি সুস্থ, সুন্দর ও শুদ্ধ নির্বাচন করে আমরা মুজিববর্ষে জাতির জনকের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করি।

এইচএস/এমএফ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]