বঙ্গবন্ধুভক্ত মুক্তিযোদ্ধা উসমান কি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১১ এএম, ২৬ মার্চ ২০২০

মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণকারী এক সৈনিক এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মরণব্যাধি ক্যান্সার ও ফুসফুসে টিউমারের কারণে শয্যাশায়ী। বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন মহলে সাহায্যের আবেদন করেও কপালে জোটেনি কিছুই। এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি। এই মুক্তিযোদ্ধার নাম মোহাম্মদ আলী উসমান।

উসমান বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর তিনি এলাকায় প্রতিবাদ করেছিলেন। টিলার ওপর উঠে চিৎকার করে বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাই। আর ঘোষণা দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হলে তিনি কোনোদিন ঘর-সংসার করবেন না। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতে হতে তার যৌবন পেরিয়ে গেছে। তাই তিনি বিয়ে করে সংসারী হতে পারেননি। বিএনপির আমলেও অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সাউদ পাড়া গ্রামের এই মুক্তিযোদ্ধা এখন ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত। কিন্তু চিকিৎসা করার কোনো টাকা-পয়সা নেই। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৬ শতাংশ জমি ছাড়া সহায়-সম্বলহীন এই মুক্তিযোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কথা শুনে তাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তিনি পাননি বলে জানান। এরপর অনেকবার গণভবনে যোগাযোগ করলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

সংসদে কর্মরত তার ভাতিজা লিটন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আলী উসমান মিয়া এখন ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। নিজে নিজে খেতে পারেন না। এর আগে তিনি বক্ষব্যাধি ও ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও তা ওষুধের পেছনে খরচ হচ্ছে। ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল হাওয়ায় তিনি সব ওষুধ কিনতে পারেন না।’

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই মুক্তিযোদ্ধা আজীবন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কাজ করেছেন। সুবক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। ছিল ভরাট কণ্ঠ। আর ওসমানীর মতো চেহারা ও গোঁফ থাকায় এলাকার সবাই তাকে উসমান নামে না দেখে ওসমানী বলে ডাকত। কিন্তু এখন তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না।

টেলিফোনে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা উসমানের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘২৬ মার্চ এলে মুক্তিযুদ্ধের কথা আরও বেশি করে মনে পড়ে। রক্ত টগবগ করে ফোটে। কিন্তু আজ আমি শয্যাশায়ী। ঠিকমতো কথা বলতে পারি না। আমাকে তুলে খাওয়াতে হয়। ছেলেমেয়ে না থাকায় ভাই ভাতিজারা আমার দেখাশোনা করে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, চিকিৎসার অভাবে যেন আমার মৃত্যু না হয়।’

বঙ্গবন্ধুভক্ত এই মুক্তিযোদ্ধার আক্ষেপ, ‘মানুষ তো একদিন মরবেই কিন্তু টাকার অভাবে মৃত্যু খুবই দুঃখজনক, অপমানজনক।’

এইচএস/এসআর/জেআইএম