আজিমপুর কবরস্থানে স্বজনদের ভিড়

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২৫ মে ২০২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মানবশূন্য দেখা গেলেও আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন আজিমপুর কবরস্থানে সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষের ভিড়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা সপরিবারে কিংবা একা বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের কবর জিয়ারত করতে ছুটে এসেছেন। নীরবে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ দোয়া দরুদ পড়ছেন কেউবা দুই হাত তুলে মোনাজাত করে কবরবাসীর জান্নাত পাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করছেন। তবে অন্যান্য ঈদে অপেক্ষাকৃত পুরুষদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এবার নারী ও শিশুদেরও কবর জিয়ারত করতে আসতে দেখা গেছে।

Grave-(4).jpg

দুপুর ১২টায় সরেজমিন আজিমপুর কবরস্থান পরিদর্শনকালে দেখা যায়, আজ ঈদের দিনে আজিমপুর কবরস্থানের দক্ষিণ দিকের প্রধান ফটকের পাশাপাশি উত্তর দিকের ফটকটি, যা সাধারণত বন্ধ থাকে আর জিয়ারতের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ পাশের প্রধান ফটকের সামনে রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে ক্ষণে ক্ষণে ছোটখাটো যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। দেখা গেল রীতিমতো মিছিলের মতো করে মানুষ বের হচ্ছে আর ভেতরে ঢুকছে।

অন্যদিন ভিখারি ও ভাসমান মানুষদের খুব একটা না দেখা গেলেও আজ অনেককেই গেটের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে। কবর জিয়ারত করে বের হয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই দান-খয়রাত করেন।

Grave-(4).jpg

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা আবুল কালাম। তিনি বলেন, প্রতি বছর নামাজ পড়ে তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে আসেন। তাদের কবর জিয়ারত করে মানসিক শান্তি পান। অন্যান্য বছর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বিকেলে বের হলেও আজ করোনা পরিস্থিতির কারণে কোথাও যাবেন না। সোজা বাসায় গিয়ে ঘুমাবেন ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখে ঈদের দিনটি কাটিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি।

কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা লুৎফা বেগম জানান, করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই মাস গৃহবন্দি। আজ সাহস করে স্বামীর সঙ্গে মায়ের কবর জিয়ারত করতে এসেছেন।

Grave-(4).jpg

অনেক দিন পর আজিমপুর কবরস্থানে অনেক মানুষের উপস্থিতি হওয়ায় আয়-রোজগার বেশ ভালো বলে জানান বৃদ্ধ ভিক্ষুক আলতাফ মিয়া।

এমইউ/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]