রিকশা না চালাইলে খামু কী?

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ২৫ মে ২০২০

রাস্তার পাশে রিকশাটি থামিয়ে রেখে ফুটপাতে ধপ করে বসে পড়লেন আনুমানিক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মোফাজ্জল হোসেন। পেটের তাগিদে কাকডাকা ভোরে গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে ২৫০ টাকা আয় করেছেন। দুপুরের প্রচণ্ড রোদের কারণে হঠাৎ করে শরীরটা ভীষণ খারাপ লাগতে থাকে। বুকে ধরফর শুরু হয়। একটু বিশ্রাম নিতে বসেছেন।

আজ ২৫ মে দুপুরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বৃদ্ধ রিকশাচালক মোফাজ্জল হোসেন বারবার হাঁপাচ্ছিলেন। থেমে থেমে তিনি বলছিলেন, বয়স তো আর কম হলো না, কিন্তু এমন নিরস ঈদ তার জীবনেও দেখেননি। অন্যান্য বছর ঈদের দিনে যেখানে যাত্রী টেনে একটু বিশ্রামের সময় পেতেন না, সেখানে আজ রাস্তাঘাট নীরব, মানুষের চলাচল খুবই কম। করোনাভাইরাসের কারণে তাদের আয়-রোজগারের অনেক কমে গেছে বলেও জানান।

বৃদ্ধ বয়সে কেন রিকশা চালাচ্ছেন, সন্তান আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধের চোখে-মুখে এক ধরনের বেদনার ছাপ ফুটে উঠল। ইতস্তত ভঙ্গিতে বললেন, রিকশা না চালালে খামু কী? তিনি জানান, তিন ছেলে থাকলেও ওরা কেউ সাথে থাকে না। যে যার মতো বিয়ে করে আলাদা থাকে। এ বৃদ্ধ বয়সেও তার ঠাঁই হয়েছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে মেয়ের বাড়িতে। বয়স হলেও মেয়ের ওপর বসে খেতে তার মন সায় দেয় না। তাই তো রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। আগের মতো সারাদিন চালাতে পারেন না। অর্ধেক বেলা চালিয়ে যা রোজগার হয় তাতে তার চলে যায়।

গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, এই যে করোনা নাকি কি ভাইরাস দেশে আসছে, এই ভাইরাস বিদায় হবে কবে? চলে আসার সময় বৃদ্ধ বললেন, ছেলেরা কাছে না থাকলেও ওরা বউ পোলাপান নিয়ে ভালো থাকুক এটাই তিনি চান, শুধু মরণ পর্যন্ত যেন শরীরটা ভালো থাকে সেটাই তিনি প্রত্যাশা করেন।

এমইউ/এনএফ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]