প্রবাসীদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন না তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২২ পিএম, ২৯ মে ২০২০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নিজের আবেগী বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে প্রবাসীদের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রীর কেবিনেটের সদস্য হয়ে (আপনার) এ ধরনের বেফাঁস কথা মানায় না। যদিও আপনার মন ভালো, ইনটেনশন ভালো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ফেসবুক লাইভে এসে এই আহ্বান জানান ব্যারিস্টার সুমন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘প্রতিটা মানুষের জীবনে কিন্তু কপালে লেখা থাকে না জীবনে মন্ত্রী হতে পারবেন। খুব অল্প মানুষের কপালেই লেখা থাকে যে উনি মন্ত্রী হবেন। আর এ রকম ভাগ্য যাদের থাকে তারা মন্ত্রী হওয়ার পর বা মন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কিছু দায়িত্ব অর্পিত হয়। এভরি অ্যাচিভমেন্ট কামস উইথ আ রেসপন্সসিবিলিটি। অর্থাৎ, জীবনে প্রতিটা অর্জনের সঙ্গে কিছু না কিছু দায়িত্ব থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যখন মন্ত্রী হয়ে আসেন তখন আপনি একটি অঞ্চলের মন্ত্রী নন, আপনি সারা বাংলাদেশের মানুষের মন্ত্রী। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন আপনি তাদেরও মন্ত্রী। আর যদি আপনি কখনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন, তাহলে ধরে নিতে হবে যে বোধগম্য হয়-এমন কথাই আপনাকে দিয়ে পৃথিবীর মানুষ আশা করে।’

এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার সুমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমি জানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভেতরে কোনো দুই নম্বরি নাই, ওনার ইন্টেনশনের মধ্যেও কোনো দুই নম্বরি নাই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, বারবার ওনার বক্তব্য নিয়ে প্রবাসী এবং সরকার কেন মুখোমুখি হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদেরকে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে যেভাবে কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, এই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্ধেক বক্তব্য দিয়ে বলছেন, আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছি, উনি বলতে চাচ্ছেন যে, কেউ ওনাকে টুইস্ট করছে, ওনার বক্তব্য টুইস্ট করা হচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের উদাহরণ টেনে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আপনি কিন্তু বলেছেন প্রবাসীরা নবাবজাদা। আপনি সেটা না বলে বলতে পারতেন কিছু প্রবাসী নবাবজাদার মতো আচরণ করে। সাবেক অর্থমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনার ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী মাল মুহিত (আবুল মাল আবদুল মুহিত) যখন কথা বলতেন, তখন উনি একজন অনেক বয়স্ক মানুষ ছিলেন, রাবিশ টাবিশ বলতেন। বয়স্ক মানুষ বলে মানুষ এগুলো মেনে নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আপনি যখন তার ভাই হয়ে, একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে, যখন একদম জেনারেলভাবে কথা বলেন যে, প্রবাসীরা নবাবজাদা...সব প্রবাসীরা তো আর আমার মতো ব্যারিস্টার না, আপনার মতো এ রকম ফ্যামিলি থেকে আসে নাই যে, আপনার বলিষ্ঠ কথা, লুকানো কথা, ভেতরের কথা-সব স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে।’

“প্রবাসীরা এমনিই থাকে দুনিয়ার কষ্টে। প্রবাসীরা নিজের দেশের বাইরে থেকে (বিদেশে থেকে) যেখানে মানুষ একটু সম্মান আশা করে, আপনি যখন বলছেন যে লাখে লাখ মানুষ আসবে, বিভিন্ন কথা বলেছেন। আপনি বলতে পারেতেন যে, আমাদের আইন, বিচার ব্যবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। আপনি কীভাবে বলতে পারলেন যে, প্রবাসীরা আসলে পরে এভাবে মানুষ বেড়ে যাবে, চাকরি থাকবে না? শেষে একটা কথা লাগিয়ে দিয়ে বললেন যে, ‘প্রবাসীরা আসার পরআমাদের চুরি-চামারি বেড়ে যাবে’। এর মানে কী? আপনি কীভাবে বলতে পারলেন যে, ‘প্রবাসীরা আসলেই চুরি-চামারি বেড়ে যাবে?’ আপনি বলতে পারেন, এই ধরনের সিচুয়েশনের অবনতি ঘটতে পারে।”

‘প্রবাসীদেরকে সম্মান আপনার মনের ভেতরে রাখলেই হবে না মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার মুখের মধ্যদিয়ে প্রকাশিত হতে হবে। আপনি খেয়াল করে দেখছেন, আপনি প্রতিবারই একটা বক্তব্য দেন আবার এটা বোঝানোর জন্যই আবার পাঁচ মিনিট পরে আবার আরেকটি ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে হয়, যে হ্যাঁ আমি এটা বলি নাই’-যোগ করেন ব্যারিস্টার সুমন।

ফেসবুক লাইভের এক পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের মুখপাত্র উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশের মুখপাত্র হয়ে যদি প্রতিটা বক্তব্যই এক্সপ্লেইন করে পাঁচ মিনিট পরপর বোঝাতে হয়, তাহলে আমি মনে করি মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি এই পদের যোগ্য নন। আপনি এর চেয়ে আরও ভালো কোনো পদ যদি থাকে…।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘যেন ওনারে আরও বড় ভালো কোনো পদ যদি থাকে, যেখানে সৈয়দ বংশের লোকজন থাকে, খুব ব্রাহ্মণ বংশের লোকজন থাকে, ওনাকে সেখান দিয়ে দেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের নেতা হিসেবে আমি মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, যদি একটু শেখার কিছু হয় তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিখুন। কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।’

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘আপনি উনার (প্রধানমন্ত্রী) কেবিনেটের সদস্য হয়ে, এ ধরনের বেফাঁস কথা...আপনার ইনটেনশন ভালো, আপনার মনের ভেতরে ভালো, কিন্তু আপনার মুখের কারণে আপনি কি প্রবাসীদেরকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এবং সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন না? আমি আপনাকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলব, যদি কথা বলতে এ রকম সমস্যায়ই হয়, আল্লাহর ওয়াস্তে কথা বলবেন না, তাও এরকম দুর্যোগ মুহূর্তে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কাজ করতে দেন। কাজ যদি নাও করেন বাধা দিয়েন না। বহু কষ্টে এই সরকার হাঁটিহাঁটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনার শুভ কামনা করছি।’

এফএইচ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]