বাঁধ তৈরির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে জোর দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ২৯ মে ২০২০

জনপদ রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা নদী বা খালের পাড়ে গাছ লাগান, ঘর-বাড়ি সংরক্ষিত থাকবে।

শুক্রবার (২৯ মে) ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা জেলার দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার বটবুনিয়া, কামিনিবাসী, ঝালবুনিয়া, শোলাদানা বাজার, গরইখালী বাজার,কুমখালী, পাটকেলপোতা ও দেলুটি ইউনিয়নের কালীনগরের বাঁধ এলাকা স্পিডবোটযোগে পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি কয়রা, শ্যামনগর, আশাশুনি এলাকা ঘুরে দেখেছি, যেখানে গাছ ছিল সেখানে ভাঙন হয়নি, হলেও খুবই কম। যেহেতু বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, তাই পুরো দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করবো, আপনারা নদী বা খালের পাড়ে গাছ লাগান, ঘর-বাড়ি সংরক্ষিত থাকবে।

খুলনার দাকোপ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণের জন্য ১২০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ দরকার তবে এতে মানুষ বিমুখ হয়ে যায়। কিন্তু একমাত্র শেখ হাসিনার সরকার জমির বাজারমূল্যের তিনগুণ বেশি দাম দেয়। প্রকল্প পাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আমরা দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু করবো।

এ সময় খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাবীবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মাহমুদুল ইসলাম, উপ-সচিব নুর আলম, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (খুলনা) মো. রফিক উল্লাহ, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) পলাশ ব্যানার্জি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিংড়ির ঘেরের জন্য বাঁধ স্থায়ী হয় না। তাই বাঁধ থেকে কমপক্ষে ১০০ মিটার দূরে চিংড়ি ঘের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘মানবতার নেত্রী’ বলেই জনদুর্ভোগ কমাতে বাঁধ একবার করার পরও আবার বাঁধ করে দেন।

এর আগে গত ২৭ ও ২৮ মে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলা এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

গত ২০ মে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু খুলনার দাকোপ উপজেলায় প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ২২মে উপকূলীয় এলাকার ক্ষয়ক্ষতি হেলিকপ্টারযোগে পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। আম্ফান আঘাত হানার আগে উপমন্ত্রী শামীম সাধারণ ছুটির মধ্যেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাঁধ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।

তাছাড়া, গত ২২ ও ২৩ মে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পর্যবেক্ষণ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। পর্যবেক্ষণ শেষে গত ২৪ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সভা করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এমইউএইচ/এইচএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]