নারী নেতৃত্বের বিধান পরিবর্তনের ইঙ্গিতে মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৪ পিএম, ০৩ জুন ২০২০

রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারীর ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের বিধান পরিবর্তনের ইঙ্গিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বুধবার সন্ধ্যায় (৩ মে) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা সংবাদমাধ্যমে জানতে পারলাম যে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অন্যতম পদক্ষেপ ‘২০২০ সালের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩% নারী থাকতে হবে’ বিধান রেখে ২০০৯ সালে নির্বাচন কমিশন থেকে যে জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, ২০২০ সালে এসে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তা পরিবর্তন করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আমরা মনে করি এই পরিবর্তনের চিন্তা-ভাবনা নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। আমরা জানি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলে নারীরা দলীয় সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরে ২০২০ সালের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক করার বিধান ২০০৯ সালে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ যুক্ত করা হয়, যাতে রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। এই অধ্যাদেশের ফলে তৃণমূলের নারীদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

নারীর প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এটি একটি সময়োপযোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলো ও এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। এই সব পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক ইনডেক্সে জেন্ডার গ্যাপ কমে এসেছিল। কিন্তু নতুন করে নারীর ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব বিধান পরিবর্তন করা হলে সেগুলো আবার বাড়বে।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে তাকে আরও অগ্রসর, কার্যকর এবং টেকসই করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের নীতিনির্ধারণীর ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ নারীর অন্তর্ভুক্তি একান্ত প্রয়োজন।

এছাড়া রাজনৈতিক দলে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর প্রতিনিধিত্ব থাকতে হলে, দলের কমিটিগুলোতে তার প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। সরকারের গৃহীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১-তেও এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনোরকম দাবি না ওঠা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার চিন্তা-ভাবনা করছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে পূর্ব সিদ্ধান্ত বহাল রাখার জোর দাবি জানাচ্ছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল, দলের নারী সংগঠক, কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জেইউ/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]