শ্রমিকদের করোনা টেস্টের আধুনিক ল্যাব চালু করলো বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৭ পিএম, ০৪ জুন ২০২০

শ্রমিকদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য দেশের প্রথম 'স্টেট অব দ্যা আর্ট কোভিড-১৯ ল্যাব' চালু করলো পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। ল্যাবটির কারিগরি সহায়তা করছে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বাডাস)।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ল্যাব উদ্বোধন করা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুসারে দেশে প্রথম বিশ্বমানের 'স্টেট অব দ্যা আর্ট কোভিড-১৯ ল্যাব' তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গাজীপুরের চন্দ্রায় ড. ফরিদা হক মেমোরিয়াল জেনারেল হাসপাতালে প্রধান ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হবে। সাভারেও ল্যাব করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের এসব ল্যাব সেন্টারে প্রতিদিন ৪০০টি করে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শিফটসহ নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়া পরবর্তীতের নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ল্যাব করা হবে। এতে ওষুধ এবং ল্যাব খরচ দেবে বিজিএমইএ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে করেন বিজিএমইএ'র সভাপতি ড. রুবানা হক। উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুশের্দী, শ্রম সচিব কে এম আব্দুস সালাম, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বাডাস) সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কে আজাদ খান প্রমুখ।

বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন ব‌লেন, খুব শিগিরই চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে একটি করে দুটি ল্যাব করা হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে চারটি ল্যাব বসবে। এ ছাড়া নারী শ্রমিকদের জন্য আলাদা আইসোলেনশন সেন্টারও করা হ‌বে।

তিনি বলেন, শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিতে পোশাক শ্রমিকরা। এরই মধ্যে সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে কিছু শ্রমিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ঝুঁকি কমাতে যত বেশি সম্ভব শ্রমিককে পরীক্ষার আওতায় আনতে চায় বিজিএমইএ।

সাংবাকিদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, কারখানার শ্রমিকরা করোনায় আরও বেশি আক্রান্তের শঙ্কা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের চেয়ে গরিবদের সহ্য ক্ষমতা ও সচেতনতা বেশি। ফলে বুধবার রাত পর্যন্ত ২৬৪ জন পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবাইকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করছে মালিকপক্ষ।

করোনায় ৪২ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা খাবে পোশাক খাত, এই শঙ্কা জানিয়ে বিজিএমইএ'র সভাপতি বলেন, তারপরও এ বছর পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় হবে ২৩ বিলিয়ন ডলার। করোনায় স্থগিত হওয়া ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২৬ ভাগ অর্ডার পুনরায় ফিরে পেয়েছি।

এসআই/জেডএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]