এবার গ্রামে বসে ভার্চুয়ালি শুনানি করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ০৪ জুন ২০২০

 

হাওর অঞ্চল থেকে জামিন শুনানির পর এবার দেশের আরেক প্রান্ত যমুনার পশ্চিমপাড়ের অঞ্চল সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় গ্রাম থেকে ভার্চুয়ালি জামিন শুনানি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসাদ উদ্দিন।

সুদূর সিরাজগঞ্জের গ্রাম থেকে ঘরে বসেই রাজধানীতে অবস্থিত সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলার শুনানি করার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এটা অন্যরকম এক অনুভূতি। গ্রামের বাড়িতে বসেই উচ্চ আদালতে একটি জামিন শুনানি করেছি। সেটা সম্ভব হয়েছে দেশের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা এবং হাইকোর্টের বিচারকের আন্তরিকতা এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সহযোগিতায়।

তিনি জানান, শুনানিতে মাগুরা জেলার এক আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ হত্যা মামলার দুই আসামির অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। অন্যদিকে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন।

আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, গ্রামে বসে শুনানি করার কারণে হয়তোবা দুই-তিনবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। বিচারক খুবই আন্তরিক ছিলেন, নেট সমস্যা হলোও। অনেকদিন কোর্টে অনুপস্থিতি, এই সুযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল স্যার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল স্যার এবং অন্যদের সাথে কুশলাদি বিনিময় হলো।

শুনানির সময়ের কথা উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অনেকটা আনন্দের সাথেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেছেন, নিয়মিত কোর্টের সময় বিভিন্ন বেঞ্চে দৌড়াতে হতো আর এখন এক জায়গায় বসে সব কোর্টে অ্যাপিয়ার করছি। তিনি এ-ও বললেন, করোনা শুরুর পর থেকে তিনি একদিনও বাইরে বের হননি। প্রথমটি ভার্চুয়াল কোর্টের জন্য উৎসাহব্যাঞ্জক, দ্বিতীয়টি করোনা সতর্কতার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বটে।

আইনজীবী আরও বলেন, আজ এবং অন্যসময়েও যাদের সাথে কথা হয়েছে সেসব আইনজীবীও ভার্চুয়াল কোর্টের ব্যাপারে ভীষণভাবে আগ্রহী এবং পুলকিত হয়েছেন। ভার্চুয়াল কোর্ট আমাদের জন্য নতুন সিস্টেম হওয়ায় কিছুটা দ্ব্যর্থতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দিনে দিনে এ পদ্ধতি নিশ্চয়ই উন্নত হবে, আমরাও অভ্যস্থ হয়ে উঠব, সমস্ত অসঙ্গতি দূর হবে। আর বেঞ্চ সংখ্যা বৃদ্ধি করে অন্তত আপদকাল পার করতে পারলে সকলের জন্যই মঙ্গল।

সিরাজগঞ্জ থেকে হত্যা মামলার আসামির জামিন শুনানিতে হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট একটি নতুন সূচনা। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। কখনোই ভাবিনি কোর্টে না গিয়ে বাড়িতে বসেই মামলার শুনানি করা যাবে। খুবই ভালো লাগলো। লকডাউনে ঘরবন্দি থাকলেও মামলা চালিয়ে নেয়া যাবে।

করোনায় লকডাউনে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন আইনজীবী আসাদ উদ্দিন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন আদালত বন্ধ থাকায় চাপও বাড়ছিল। এরমধ্যে ভার্চুয়াল কোর্ট খোলার সিদ্ধান্তে আলোর মুখ দেখেন জামিনের অপেক্ষায় থাকা বিচারপ্রার্থীরা। এরপর গত ২৮ মে জামিন আবেদন করেছিলাম ইমেইলের মাধ্যমে। জামিন আবেদনের পর শুনানির জন্য পূর্বেই তারিখ ঠিক করে দেন, তারপর আদালত আমাকে জানিয়েছেন আজ (৪ জুন) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এ আইনজীবী বলেন, প্রথমদিন একটু ভিন্ন অনুভূতি থাকলেও আমার মনে হয়, বাসায় বসে আরও ভালো করে সাবমিশন রাখা যাবে। সকল আইনজীবীকে প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে এর আওতায় আনতে পারলে সবাই উপকৃত হবেন বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে গত ১৭ মে হাওর অঞ্চল কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা থেকে হাইকোর্টের একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল।

করোনার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ ছিল দেশের সব আদালত। অবশেষে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গত ১১ মে থেকে শুরু হয় ভার্চুয়াল আদালত। প্রতিদিন হাইকোর্টসহ দেশের বিভিন্ন ভার্চুয়াল আদালত থেকে শত শত মানুষের জামিন হচ্ছে।

এফএইচ/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]