করোনাকালে নির্যাতিত নারীদের সহায়তা দিচ্ছে ডিএমপি

জসীম উদ্দীন
জসীম উদ্দীন জসীম উদ্দীন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

মহামারি করোনাকালেও পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে যারা আইনি সহায়তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে আসছেন, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বিভাগটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নির্যাতিতদের (নারী-শিশু) টেলিফোনে আইনি পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তদন্তাধীন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল পরিসরে ছোট হলেও ডিএমপির অত্যন্ত কর্মচঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন। বহুমাত্রিক মিশন নিয়ে কাজ করতে হয় এ বিভাগের কর্মকর্তাদের। থানার মতো ২৪ ঘণ্টার জন্য বিরামহীন সেবা প্রদানের প্রত্যয় নিয়ে পথ চলতে হয়। ভুক্তভোগীদের সহায়তার (থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, খেলাধুলা, বিনোদন, যাতায়াত, আইনি পরামর্শ, কাউন্সেলিং, পারিবারিক সমস্যায় মধ্যস্থতা) পাশাপাশি মামলা তদন্ত ও ভুক্তভোগী উদ্ধারই এ বিভাগের মূল কাজ।

এ ব্যাপারে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হামিদা পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে। বেড়েছে কর্মহীন মানুষের হাহাকার, ক্ষুধা। সেই সঙ্গে বেড়েছে সহিংসতাও। গত মার্চ হতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন ভাবনার জন্ম দিয়েছে। সেবা প্রত্যাশাীরা আমাদের কাছে সহায়তা চাওয়ার আগেই অভাবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ঘর পর্যন্ত আমাদের সেবার হাত প্রসারিত করেছি। মানবতার উপহার নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছি ঢাকা মহানগরীর নানা প্রান্তে। করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় কর্মহীন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, সিঙ্গেল মাদার ও বিধবা, যারা লজ্জায় ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারেননি তাদের এসএমএসএর ভিত্তিতে গোপনে ঘরের দরজায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

DMP-3.jpg

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে হাজারের বেশি অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। অসহায় মানুষগুলোর পাশে থাকতে নিজেদের বেতন-রেশন দিয়েছেন এ বিভাগের ১০১ নারী পুলিশ সদস্য।

বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের ন্যায় করোনাকালীন নিরলসভাবে দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণ বিরতণ করেছে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।

ডিসি হামিদা পারভীন বলেন, পুরো ডিএমপিই এই বিভাগের মধ্যে পড়ে। আমরা সব এলাকার জন্য আমাদের সহায়তা উন্মুক্ত রেখে আহ্বান করেছিলাম। আমাদের আহ্বানে অসংখ্য অসহায় মানুষ প্রতিদিন ত্রাণের চাহিদা জানিয়েছেন। চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ মিরপুর এলাকার। তেঁজগাও, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, রমনা, মতিঝিল, লালবাগ, গুলশান, ওয়ারী এলাকা হতেও সহায়তার জন্য চাহিদা এসেছে। করোনা সময়ের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অসহায় মানুষকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এ বিভাগ। করোনাকালের শুরু হতে এখন পর্যন্ত হারানো, ঘর পালানো, নির্যাতিত গৃহকর্মীসহ অনেক ভুক্তভোগীকে বিভাগের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে মমতায়-ভালবাসায় রাখা হয়েছে।

হামিদা পারভীন বলেন, করোনকালেও থেমে নেই পারিবারিক সহিংসতা। গৃহকর্মী থেকে শুরু করে এ সময়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন উচ্চবিত্ত কর্মজীবী নারীও। তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছে এ বিভাগ। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে যারা আইনি সহায়তার জন্য এসেছিলেন, তাদের সঙ্গেও মোবাইলে যোগাযোগ এবং সব ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। সব প্রান্তের নির্যাতিত ও সহিংসতার শিকার হওয়া নারীদের টেলিফোনে আইনি পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি অসহায়দের খাদ্য ও অর্থ সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

DMP-3.jpg

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নুসরাত জাহান মুক্তা বলেন, অসহায় নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী ছাড়াও এই করোনাকালে সহযোদ্ধাদেরও পাশে আছে এ ডিভিশন। চিকিৎসারতদের মনোবল অটুট রাখতে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন কমিটির সদস্য হয়ে হাসপাতালসহ কোয়ারেন্টান ও আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন করছেন উপ-পুলিশ ডিসি হামিদা।

তিনি বলেন, নিজ ডিভিশনের করোনা আক্রান্ত সদস্যদের এবং তাদের পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে সব রকম সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য সদস্যদের করোনামুক্ত রাখতে নেয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। সবাইকে ভালো থাকার অসম যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে এ ডিভিশন। বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় ইতিহাসের একটা ক্ষুদ্র অধ্যায় হয়ে আরও বৃহৎ দায়িত্ব পালনে সদা প্রস্তুত এ ডিভিশনের ১০১ নারী পুলিশ সদস্য।

জেইউ/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]