এখন সকল কাজ চলছে পুরোদমে : ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২০
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক এবং চলমান প্রক্রিয়া। বৈশ্বিক উন্নয়নকাজে আকস্মিক বাধা এলেও এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার হয়েছে। গত দু-তিন মাসে কিছু প্রকল্পের সীমিত আকারে কাজ হয়েছে। এখন সব কাজ চলছে পুরোদমে।’

রোববার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শত প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে থাকেনি। ইতোমধ্যে ৩১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, দৃশ্যমান হয়েছে চার হাজার ৬৫০ মিটার। এছাড়া ইতোমধ্যে স্থাপিত স্প্যান বা ট্রাসের ওপর যানবাহন চলাচল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর শতকরা ৮৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, জাইকার অর্থায়নে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল রুট-৬ এর কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পে কর্মরত জনবলের কোভিড-১৯ পরীক্ষা শেষে তাদের কর্মে নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক স্থাপনা।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে দুটি ফিল্ড হসপিটাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। স্থাপন করা হয়েছে রেললাইন। একসেট ট্রেন নির্মাণকাজ জাপানের কারখানায় সম্পন্ন হয়েছে। আরো চার সেট নির্মাণ করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জাপান থেকে জলপথে ট্রেনগুলো নিয়ে আসা হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে স্টেশন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। করোনার শুরুর দিকে কিছুটা থমকে গেলেও এখন পুরোদমে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেই প্রকল্প এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। করোনাকালে থেমে থাকেনি নদীর খননকাজ। ইতোমধ্যে দুই দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টিউবের দুই দশমিক ৩ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। সম্প্রতি টানেলের অন্যান্য কাজেও পূর্ণ গতি ফিরে এসেছে। এ প্রকল্পের এ পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৫৬ ভাগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ গতি ফিরে পেয়েছে। করোনার আঘাতে প্রথমদিকে কাজ সীমিত পর্যায়ে চললেও এখন গতি পেয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের সংকট দূর হয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ থেমে নেই। সীমিত পরিসরে চলছে। চীনা ঠিকাদারের কিছুটা সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইতোমধ্যে আমরা চীনা দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছি। এ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর-ঢাকা করিডোরের দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের চার লেনে উন্নীতকরণের সব বাধা পেরিয়ে আশার মুখ দেখেছে। সম্প্রতি এডিবি এ প্রকল্পে অর্থায়নে চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। এডিবির নিজস্ব বাজেটে অর্থায়ন অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। শিগগিরই প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, পায়রা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। গত দু-তিন মাসে সেতুর নদীর মধ্যবর্তী অংশের কাজ চলেছে সীমিত পর্যায়ে। ইতোমধ্যে ২০০ শ্রমিকের জন্য প্রকল্প এলাকায় বাসস্থান নির্মাণের ফলে নির্মাণকাজে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। এ প্রকল্পে নির্মাণকাজের অগ্রগতি মূল সেতুর ৬৫ শতাংশ এবং পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৫৯ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান। তিনটি প্যাকেজে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজের কাজ চলছে। অপর প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। বিদেশি জনবল কর্মরত থাকায় সাময়িক বন্ধ শেষে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ২৪ শতাংশ।

এইউএ/এসএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]