দ্বিতীয়বার বিয়ে করেও বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রী হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ০৬ জুলাই ২০২০

পাঁচ বছর আগে পারিবারিক কলহ ও বনিবনা না হওয়ায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাস আগে আবার তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়। ফের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রেবেকা বেগম (২৮) ও মফিজুল ইসলাম (৩২)। তবুও তাদের মধ্যে বনিবনা হয়নি। ঝগড়া আর কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী মফিজুল।

এরপর লাশ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা এলাকার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়ার একটি পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায় মফিজুল। চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ রেবেকা হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় স্বামী মফিজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

রোববার দিবাগত রাতে জামালপুর জেলার ইসলামপুর পৌরসভার মোশারফগঞ্জ এলাকা থেকে মফিজুলকে গ্রেফতার ও নিহতের মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, গত ২৮ জুন দুপুর ১২টায় আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মেন্টসের পেছনে কাছাকাছি একটি পুকুর থেকে আশুলিয়া থানা পুলিশ একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ মৃতের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারকে জানালে পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের লোকজন এসে লাশ শনাক্ত করে। থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা মোসা. খোদেজা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলামকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। রোববার দিবাগত রাত (৬ জুলাই) সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-১ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর জেলার ইসলামপুর পৌরসভার মোশারফগঞ্জ টঙ্গের আগলা গ্রামের মেয়রের বাজারে অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামি নিহতের স্বামী মফিজুলকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মফিজুল স্ত্রী হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন হকার। তার স্ত্রী ভিকটিম রেবেকা বেগম একজন গার্মেন্টস কর্মী। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে ভিকটিম রেবেকা বেগমের চাকরি চলে যায়। এর আগে ২০০৬ সালে গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে নিহত রেবেকা বেগমের সাথে তার পরিচয় ও বিবাহ হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান আছে।

বিয়ের পাঁচ বছর পর পারিবারিক কলহের কারণে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তারা দ্বিতীয়বার বিয়ে করে। গত ছয় মাস পূর্বে নিহত রেবেকা বেগমের সঙ্গে তার আবার যোগাযোগ হয় এবং গত ৬ জুন পুনরায় তাদের বিয়ে হয়।

মফিজুল ইসলাম মিরপুর এলাকায় বসবাস করতো। স্ত্রী রেবেকা বেগম আশুলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিয়ের পর মাঝে মাঝে আশুলিয়ায় এসে রেবেকা বেগমের বাসায় রাতযাপন করতো মফিজুল। রেবেকা বেগম স্বামীর সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করতে চাইতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথাকাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হতো।

গত ২৭ জুন রাতে রেবেকা বেগম স্বামী মফিজুলকে মোবাইল করে মিরপুরের ভাড়া বাসায় চলে যান এবং একসঙ্গে বসবাস করতে বলেন। তখন মফিজুল তাকে আরো কিছুদিন ধৈর্য ধরার জন্য বলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

পরে ২৭ জুন সাড়ে ১০টার দিকে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তার স্ত্রী রেবেকাকে সাথে নিয়ে সে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মেন্টসের পেছনে কাছাকাছি পুকুর পাড়ে পৌঁছলে স্ত্রী রেবেকা ও তার মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে রেবেকা বেগমকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে দিয়ে মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতার মফিজুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জেইউ/এসএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]