অটো রাইসমিলে তৈরি হচ্ছে বেনসন-গোল্ডলিফ সিগারেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ০৬ জুলাই ২০২০

অটো রাইসমিলের আড়ালে তৈরি হচ্ছে অবৈধ ও নকল সিগারেট। এরপর বেনসন অ্যান্ড হেজেস ও গোল্ডলিফের মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে তা বাজারজাত করা হচ্ছে। এমনই এক অবৈধ সিগারেট ফ্যাক্টরির সন্ধান পায় ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাইসমিলের আড়ালে অবৈধ ও নকল সিগারেট তৈরির কারখানা স্থাপনের দায়ে মালিক আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।

ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সামিউল হক টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ১০।

ঢাকা পশ্চিমের ভ্যাট কমিশনার ড. মইনুল খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদে টাঙ্গাইলের ৩৫ কিলোমিটার দূরে লোকচক্ষুর অন্তরালে এবং শাকিল অটো রাইসমিলের ব্যানারে কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। গত বছরের ১১ মার্চ ঢাকা পশ্চিমের একটি বিশেষ দল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী র্যাব এর সহযোগিতায় কালিহাতি থানার কামার্থি এলাকায় অভিযান চালায়। এতে শাকিল অটো রাইসমিলের ব্যানারে গড়ে ওঠা গোপন সিগারেট কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেটসামগ্রী জব্দ করা হয়। একইসাথে কারখানার মেশিনারিজও আটক করা হয়।

এরপর ওই বছর ১১ এপ্রিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঐ কারখানায় অভিযান করে অবৈধ সিগারেট সামগ্রী আটক ও কারখানাটি তালাবদ্ধ করা হয়।

আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩৩৩০ কেজি সিগারেট তৈরির তামাক, ৪.৫ লাখ ফিল্টার, এক প্যাকেট নকল গোল্ডলিফ ব্রান্ডের সিগারেট ও এক বান্ডিল সিগারেটের ডেলিভারি চালান। কারখানায় ব্যবহৃত ৮টি মেশিনও জব্দ করে জিম্মায় দেয়া হয়।

এই ঘটনায় ডেপুটি কমিশনার মো. সাইদুল আলম এর নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কারখানার মালিক আসাদুজ্জামান, স্বত্বাধিকারী, এশিয়ান টোবাকো, কামার্থি, কালিহাতি, টাঙ্গাইলকে সংঘটিত অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

ভ্যাট আইন অনুসারে নিবন্ধন না নিয়ে এবং সরকারের ভ্যাট রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সিগারেট কারখানা পরিচালনা করায় প্রতিবেদনে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

এই কারখানাটি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো’র বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট নকল করে বাজারজাত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

সিগারেটের উপর উচ্চ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হওয়ায় এক শ্রেণির অসৎ ব্যক্তি দেশের আনাচে-কানাচে এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। ফলে এনবিআর শত শত কোটি টাকার ভ্যাট আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করা দেশীয় কারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ভ্যাট আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কর্তৃপক্ষ।

এসআই/এসএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]