১/১১-এর কুশীলবদের বিচার প্রকৃতি করে ফেলেছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৯ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২০

১/১১-এর কুশিলবদের বিচার প্রকৃতি করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ওই দিনই ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। পরে এই ঘটনা ওয়ান/ইলেভেন (১/১১) হিসেবে পরিচিতি পায়।

১/১১-এর পেছনে যারা ছিল সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন, যারা এক-এগারোর কুশীলব তাদের অনেকেরই প্রাকৃতিক বিচার হয়ে গেছে। প্রকৃতি তাদের বিচার করে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, প্রাকৃতিকভাবে তাদের বিচার হয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের অনেকের প্রাকৃতিকভাবে বিচার হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এক-এগারোর কুশীলবরা সুশীল ছদ্মাবরণে নানান কথা বলে। তাদের গতিবিধির ওপর সরকারের নজর আছে।’

শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে গণতন্ত্রকেই বন্দী করা হয়েছিল

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৭ সালের এই দিনে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রকেই বন্দী করা হয়েছিল। সে কারণে ১৬ জুলাই শুধু শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস নয়, গণতন্ত্রেরও বন্দী দিবস।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অগ্নিবীণা, যার ধমনিতে বঙ্গবন্ধুর রক্তস্রোত প্রবহমান, যার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হয় এবং সংকটে-সংগ্রামে যিনি অবিচল-অনির্বাণ, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এইদিনে গ্রেফতার করা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায়। পিতার অপরাধে নাবালিকা কন্যাকে গ্রেফতার, স্বামীর অপরাধে অসুস্থ স্ত্রীকে গ্রেফতার- তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ ধরনের কাজগুলোর যখন কেউ প্রতিবাদ করছিল না, আমাদের আপোষহীন নেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন প্রতিবাদ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধ করার জন্য, গণতন্ত্রকে বন্দী করার জন্যই সেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।’

‘কিন্তু সেদিন যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা অনুভব করতে বাধ্য হয়েছেন যে, মুক্ত শেখ হাসিনার চেয়েও বন্দী শেখ হাসিনা অনেক বেশি শক্তিশালী। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ সেদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং সেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে তারা বাধ্য হয়েছিল, শেখ হাসিনার মুক্তিলাভের মাধ্যমে গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ ধস নামানো বিজয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আজকে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে, তার এ নেতৃত্বের জন্য বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, পৃথিবীর বরেণ্য নেতৃবৃন্দ যখন প্রশংসা করে, তখনও এক-এগারোর কুশীলবরা ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টায় লিপ্ত। যখনই দেশে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়, আমরা দেখতে পাই তারা দেশে-বিদেশে সক্রিয় হয়, আবার ছোবল মারার অপচেষ্টা চালায়।’

দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে যারা গণতন্ত্রের অব্যাহত অভিযাত্রায় বিশ্বাস করে, তাদের সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান হাছান মাহমুদ।

ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের সরকার প্রণোদনা দেবে না

সরকারি কর্মচারীরা রিজেন্ট ও জেকেজির ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে থাকলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কাছ থেকে কেউ যদি ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের সরকার কখনো প্রণোদনা দেবে না।

তারেক জিয়াকে ফিরিয়ে আনা হবে কি না- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারেক জিয়া শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি। তার একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। আরেকটি মামলায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যেহেতু আমাদের বন্দীবিনিময় চুক্তি নেই, সেজন্য আলোপ-আলোচনা চলছে। আমি মনে করি, সে যদি রাজনীতিবিদ হয় তারই উচিত ছিল আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করা। সত্যিকারের রাজনীতিবিদ কখনো আইন-আদালতকে ভয় পায় না। সত্যিকারের রাজনীতিবিদ নয় বিধায় তারা আর কখনো রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে চলে গিয়েছিল।’

আরএমএম/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]