আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না : নৌ-প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। যারা খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারণ দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।’

বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিপত্র (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একটি জিনিস না বললেই নয়; আমরা দেখতে পাচ্ছি যেকোনো অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতে বলতে মানুষের এ মন্ত্রণালয়ের প্রতি একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এটা কিন্তু বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক। কারণ, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের যেমন ভালো মানুষ আছে, খারাপ মানুষও আছে। বর্তমান সরকার কিন্তু খারাপ মানুষগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনছে। এটা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে পজিটিভ জিনিস।’

করোনার মধ্যেও নৌ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছর আমরা প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ এডিপি অর্জন করেছিলাম। কোভিড- ১৯ এর মধ্যেও আমরা এবার ৮৫ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি। জাতীয় বাস্তবায়নের চেয়েও আমরা এগিয়ে আছি। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাহস ও কর্মনিষ্ঠার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন।

‘করোনার মধ্যেও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল’ উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ বলেন, আমাদের সমুদ্র বন্দর ও আন্তর্জাতিক রুট এবং অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্য পরিবহনে আমরা আমাদের অসাধারণ সক্ষমতা দেখিয়েছি। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এত সংকটের মধ্যেও পণ্যের দামের কোনো উঠা-নামা হয়নি। এর একমাত্র কারণ পরিবহনে সঠিক ব্যবস্থাপনা।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, সমগ্র দেশে বন্যা পরিস্থিতি অনেক খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। নদীগুলোতে প্রায় ১০০ সেন্টিমিটারের ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতাও কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় পানি নিচে নামতে পারছে না। সে কারণে অনেক জায়গা প্লাবিত হচ্ছে। ঢাকার আশপাশে এবং ঢাকার ভেতরেও অনেক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সড়কের ওপর পানি উঠে গেছে। পরে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেখানে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অবস্থায়ও ফেরি পারাপারে বিকল্প চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। প্রবল স্রোতের মধ্যেও আমাদের কর্মকর্তারা প্রচুর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, ফেরি চালু রাখার জন্য।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-চাঁদপুর রুটে কয়েকদিন আগে একটি সিমেন্টবাহী জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। আমাদের বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে সেটিকে চ্যানেল থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেটিকে তুলে আনা সম্ভব হয়নি। কালিগঞ্জ যে চ্যানেলটি আছে, সেটিও আমরা পরিদর্শন করেছি। আমি নিজে সেখানে গিয়েছিলাম। কাজেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটটি আমরা নিরাপদ রাখতে পারব।

jagonews24

ড্রাইভার-মাস্টারদের বয়াবাতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বিষয়টি সত্য নয়; আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং হচ্ছে।

অতি প্রয়োজন ছাড়া ঈদে স্থানান্তর না হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে একদিকে স্বাস্থ্যবিধি, আরেকদিকে বন্যা; এর মধ্যেও আমরা মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ঈদযাত্রাটা যতটুকু সম্ভব স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করা যায়। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো প্রয়োজন না থাকলে যেন স্থানান্তর না হই।

‘আমি এর আগেও বলেছি, এখনও বলতে চাই, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আমরা যে যেখানে আছি, সেখান থেকে যেন ঈদুল আজহা উদযাপন করি। আমরা ভার্চুয়ালি আনন্দ ভাগাভাগি করে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি। কোভিড-১৯, এটাকে তো অবহেলার সুযোগ নাই। যেখানে আমাদের ১০০ ভাগ বাস্তবায়নের কথা, সেখানে কোভিডের কারণে ১৫ ভাগ কম বাস্তবায়ন হয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের এর থেকে কম-বেশি হয়েছে।’

তিনি বলেন, চলমান এ পরিস্থিতি থেকে আমরা যদি উত্তরণ ঘটাতে না পারি, তাহলে আমাদের অর্থনীতিতে একটা ধাক্কা লাগবে। উত্তরণ ঘটানোর জন্য জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নাই। সরকারের পক্ষ থেকে সবধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একটি পিসিআর ল্যাব দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি। এখন প্রায় ৬৪টি পিসিআর ল্যাব কাজ করছে। কিন্তু আমাদের নিজেদের তো সুরক্ষা করতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাগুলো আমাদের অনুসরণ করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। এর চেয়ে বড় সুখবর আর কিছু হতে পারে না। পদ্মা অস্বাভাবিক আচরণ করে। এর মধ্যেও পদ্মা সেতুর কাজ শেষপর্যায়ে। তাদেরও (পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ) কিছু নির্দেশনা আমাদের অনুসরণ করতে হয় ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে। আমরা যেহেতু সেগুলো অনুসরণ করছি, কাজেই আমাদের কার্যক্রম একটু বিঘ্ন হতে পারে। এতটুকু কষ্ট আমাদের মেনে নিতে হবে পদ্মা সেতুর বৃহত্তর স্বার্থে।

এদিন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এর অধীনস্থ ১১টি দফতর/সংস্থাসমূহের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিপত্র (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এবং দফতর/সংস্থাপ্রধানগণ এপিএ-তে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঢাকায় অবস্থিত দফতর/সংস্থাসমূহের প্রধানগণ সরাসরি এবং ঢাকার বাইরের দফতর/সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এপিএ টিম লিডারদের জুম অ্যাপের মাধ্যমে অংশ নেন।

এইউএ/এমএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]