দুই সিট মিলত ১৮০ টাকায়, এখন এক সিটই ৩০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১১ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২০

করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাসের ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ঈদ সামনে রেখেই সেই বাড়তি বাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। দুই সিটে একজন যাত্রী নেয়ার বিধিও মানছে কোনো কোনো পরিবহন। এ অবস্থায় এক সিটের জন্যই দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া যায়। ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন এমন একজন সাইফুল ইসলাম সুজন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি মানিকগঞ্জ যাব। তিন ঘণ্টা ধরে এখানে আছি। বাস আছে। করোনার জন্য এমনিতেই ভাড়া বাড়তি। করোনার পর থেকে সিলফি পরিবহন ১৮০ টাকায় দুই সিট দিত। এখন এক সিটের ভাড়াই ৩০০ টাকা।’

gabtoly

তার অভিযোগ, ‘আর পুলিশের কথা কী বলব? পুলিশ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমার নিজের চোখে দেখা, একটা স্পিড (কোমল পানীয়), একটা বেনসন সিগারেট দিচ্ছে (গাড়ির লোকজন)। কিছু টাকা দিচ্ছে। পুলিশ নিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রশাসনের লোক যদি উদ্যোগ না নেয়, আমরা সাধারণ জনগণ কী করব?’

সাইফুল ইসলাম সুজন আরও বলেন, ‘আমি আমার কথা বলছি না। সাধারণ মানুষের কথা বলছি। কারণ আমি এক হাজার টাকা দিয়েও যেতে পারব। যারা রাস্তায় বসে আছে বা ঘোরাঘুরি করছে, তাদের অনেকেই মাস গেলে পাঁচ হাজার টাকা বেতন পায়। দুই হাজার টাকা বাসাভাড়া দেয়। তিন হাজার টাকা দিয়ে বাসায় যাবে কীভাবে, বউ-বাচ্চাদের কী কিনে দেবে? কীভাবে ঈদ করবে, কীভাবে ঢাকায় আবার ফিরে আসবে।’

gabtoly-1

গাবতলী বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, টিকিট কাটার পর বাসের জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি অনেকে এত ভাড়া দিয়ে যাবেন কি না কিংবা সস্তায় টিকিট পাওয়া যাবে কি না- এমন নানা কারণে বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় অনেককেই বসে থাকতে দেখা গেছে।

তবে বাড়তি ভাড়া দিলে মিলছে টিকিট। মো. সবুজ নামে এক যাত্রী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি নাটোর যাব। রিজভী ট্রাভেলসের টিকিট কেটেছি। এসেই টিকিট পেয়ে গেছি। প্রতিটি টিকিট ১২০০ টাকা করে কিনেছি। আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনতে হয়েছে।’

gabtoly-2

গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের শ্যামলী পরিবহনের উত্তরবঙ্গগামী কাউন্টারে গেলে জানানো হয়, টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তবে বাসস্ট্যান্ডের আশপাশেই কিছু লোক দেখা যায়, যারা টিকিট বিক্রি করছেন। বাড়তি টাকা দিলেই টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।

বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরবঙ্গগামী সালমা পরিবহন কাউন্টারের মো. ফরহাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যাত্রী নাই, ৪০০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিয়েও গেছে যাত্রীরা। দুই সিটের যাত্রী এক সিটে নিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য ভাড়া বেশি। সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়াইছে। ৯৫০ টাকা হলো জয়পুরহাটের ভাড়া। এখন এক হাজার টাকা যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। যাত্রী মনে করছে, ভাড়া বেশি। এই যাত্রীই তো অন্যান্য দিন গেছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার ভাড়ায়। সেই জায়গা থেকে তাদের কাছে বাড়া বেশি মনে হচ্ছে।’

gabtoly-3

বাইরে ভিড় থাকলেও কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি। অধিকাংশ কাউন্টারের সামনে লোকজন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ফরহাদ বলেন, ‘যাত্রী এখন কমেই গেছে। যানজটের জন্য ঢাকায় গাড়ি ঢুকছে না। রাস্তায় প্রচুর যানজট। আজ ঈদের আগের দিন। গতকাল রাতে একটু যাত্রীর চাপ ছিল। তার আগের দিনও যাত্রী ছিল না। এখনও যাত্রী নাই। ভাইরাসের জন্য লোকজন কম যাচ্ছে।’

পিডি/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]