কেমন কাটছে পুলিশের ঈদ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২০

শামীম হাসান

পুলিশের ছুটি আছে! এক বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পায় পুলিশ। কিন্তু এই ২০ দিন ছুটি ভোগ করার সৌভাগ্য দুই লাখ পুলিশ সদস্যের কখনও হয় না। ছুটি পাওয়া যায় বছরে ১০ থেকে ১৫ দিন। বাকি ছুটির দিনগুলো ঠিকঠাক পালনই করা যায় না।

এবারের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় কোনো পুলিশ ছুটি পায়নি। বুকের ভেতরটা ছটফট করলেও যেতে পারেনি আপন রক্তের টানে। ঈদের নামাজ শেষ করেই একবুক কষ্ট নিয়ে সবাই বেরিয়ে পড়েছে ডিউটিতে। মাঝে মাঝে মনে হয় পুলিশ যেভাবে ডিউটি করে তাতে তারা বাঁচে কীভাবে?

একটি উত্তর মেলে। উত্তরটি হলো পুলিশের সহায় আল্লাহ! আল্লাহ ছাড়া পুলিশকে রক্ষা করার কেউ নাই। ক্লান্ত আর ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে পুলিশ ডিউটি থেকে ফিরবে রাত ৮টায়। ততক্ষণে কোরবানির মাংস অনেকের পেটেই হজম হয়ে যাবে। বারবার মনে পড়বে মায়ের মুখ, বাবার মুখ আর পরিবারের প্রিয়জনদের মুখ। সারাদিন মিথ্যা বলবে এইতো পেটভরে মাংস খেলাম। আজকের কোরবানির মাংস দারুণ স্বাদ! তোমরা খেয়েছো? তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। পরিবারের লোকজন শুনে খুশি হবে। পুলিশ তৃপ্তির ঢেকুর গিলে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে আর দু-চোখের জল মুছবে।

নীলাভ মোটা পোশাকের আড়ালেও রয়েছে একটি রক্তমাংসে গড়া দেহ। সেখানে সাধারণ মানুষের মতোই রক্তের ধারা প্রবাহিত হয়। সে রক্তেও আবেগ আছে, ভালোবাসা আছে, আছে সীমাহীন দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার। আড়ালের কান্না আড়ালেই থেকে যায় আজীবন। জীবনের সোনালী দিনগুলো এভাবেই চলে যায়। পুলিশ ভুলে যায় প্রিয়জনের জন্মদিন। একগুচ্ছ মান-অভিমান সয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় সামনের জন্মদিনে তোমাকে নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে আকাশ-বাতাস ছন্দময় করে তুলব। কিন্তু পুলিশ ভুলে যায়।

অভিমানী মেয়েটিও ততদিনে বুঝে যায় এটাই পুলিশের জীবন। পুলিশের শরীরের ঘামের মূল্য দেয়ার সামর্থ্য কারও নেই। বাংলাদেশ পুলিশ এখন যে অবিচল আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে অনন্তকালে পুলিশের চেয়ে কেউ এগিয়ে থাকবে না। অনেক দুঃখ-কষ্ট আড়াল করে পুলিশ খুশি রাখে পরিবারকে, খুশি রাখে ডিপার্টমেন্ট।

ঈদ উদযাপন করো প্রিয় দেশ
বাংলাদেশ পুলিশ আছে তোমার নিরাপত্তায়।
ঈদ মোবারক ৷

লেখক : সাব ইন্সপেক্টর (এসআই), বাংলাদেশ পুলিশ।

বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]