চামড়া বেচাকেনায় লাভ-ক্ষতি কার!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০৮ এএম, ০২ আগস্ট ২০২০

রাজধানীতে এবারের ঈদে স্মরণকালের সবচেয়ে কম দামে গবাদি পশুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন মানুষ। অন্যান্য বছর মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনলেও এবার নগরীর অধিকাংশ স্থানে তাদের দেখা যায়নি। এছাড়া করোনার কারণে এতিমখানা ও মাদরাসার ছাত্ররাও চামড়া কিনতে বের হয়নি। ফলে অধিকাংশ এলাকায় গরু জবাইয়ের পর ২-৩ ঘণ্টা পড়ে থাকলেও কেউ চামড়া ধরেও দেখেনি।

দুপুরের পর স্বল্প সংখ্যক মৌসুমী ব্যবসায়ীকে চামড়া কিনতে দেখা গেলেও লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ২৫০-৩০০ টাকা দাম বলেন। দাম শুনে অনেকেই হতবাক বনে যান। এত সস্তায় চামড়া বিক্রি না করে কোনো কোনো এলাকায় মানুষ মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দান করেন আবার কেউবা পড়ে থেকে নষ্ট হবে ভেবে পানির দরে চামড়া বিক্রি করেন।

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনলেও বিক্রি করতে গিয়ে ভালো দাম পাননি বলে জানা গেছে। তারা জানান সারাদিন পরিশ্রম করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে তারা চামড়া ৪০০ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারেননি। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন চামড়া ভালো হলে ৫০০-৭০০ টাকার মধ্যে কিনছেন। তারা বলেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বছরে ১-২ দিন ব্যবসা করতে এসে চামড়ার গুণগত মান দেখে কিনতে পারেন না। তবে এ বছর তারা খুবই কম দামে চামড়া কিনেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তারা যে টাকা দিয়ে কিনেছেন তাতেও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের লাভ হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

dhaka

শনিবার (১ আগস্ট) ঈদের দিন বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে ট্রাকে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জিগাতলা এলাকার একটি মাদরাসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মাদরাসার কিছু ছাত্রের মাধ্যমে তারা ১৫০টি গরু ও ৫০টি ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেন। তারা যে দামে কিনেছেন এবং এখানে এসে যে দামে বিক্রি করেছেন তাতে খুব একটা লাভ হবে না বলে জানান তিনি।

উপস্থিত এক চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আগের মত চামড়ার চাহিদা নেই। ফলে আগের মত দামে চামড়া বেশি দামে কেনার সামর্থ্য তাদের নেই।

তিনি বলেন, ঈদের সময় সারাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চামড়া আসে বলে তারা সংগ্রহ করে রেখে দেন। যতদিন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন পর্যন্ত চামড়ার দাম কম থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমইউ/এএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]