কয়েক টুকরা মাংসের জন্য অপেক্ষা ওদের!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২০

পুরান ঢাকার লালবাগের ঘোড়াশহীদ মাজারের অদূরে একটি বাড়ির বন্ধ লোহার গেটের বাইরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কয়েকজন হতদরিদ্র নারী। ঘণ্টাখানেক আগে কোরবানির একটি বড় ষাঁড় জবাই করে মাংস বড় বড় টুকরা করে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপেক্ষমাণ নারীদের একজনের কাছে গেটে এতজন বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা মরিয়ম জানান, তারা প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। গতকাল ঈদের দিন ও আজ দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করছেন। এই বাড়ির মালিক তাদের অপেক্ষা করতে বলেছেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মাংস কাটা শেষ হলে তিনি নিজ হাতে মাংস বণ্টন করবেন।

মরিয়ম জানান, ঘরে তার পঙ্গু স্বামী ও দুই সন্তান রয়েছে। নিজে বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ছেলে নিউমার্কেটের একটি দোকানের কর্মচারী। এ দুজনের রোজগার দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। নিজে কোরবানি দেয়া তো দূরের কথা, বাজার থেকে কেজি মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই তার। তার সঙ্গে বাড়ির সামনে বসে থাকা অন্য সবার কাহিনীও অভাব আর দরিদ্রতার বলে জানালেন মরিয়ম।

Puran-Dhaka

রোববার (২ আগস্ট) পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গরু-খাশি কোরবানি হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেক দিনের রেওয়াজ অনুযায়ী ঈদের পরদিন কিংবা তৃতীয় দিন কোরবানির পশু জবাই করা হয়। আজ জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানি করতে দেখতে পান।

লালবাগের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী তারা দ্বিতীয় দিন পশু কোরবানি করে থাকেন। ঈদের দিন কোরবানি দিলে সারাদিন পশু কোরবানি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়, এ কারণে ঈদের প্রথম দিন পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরদিন কোরবানি দিয়ে থাকেন।

Puran-Dhaka-1

ঈদের দিনের মতো আজও যে সকল বাড়িতে পশু কোরবানি হয়েছে সে সকল বাড়ির সামনে হতদরিদ্রদের ভিড় করতে দেখা যায়। করোনা পরিস্থিতির কারণে কোনো বাড়িতেই তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বাড়ির গেট থেকে তাদের কয়েক টুকরা মাংস দেয়া হয়।

সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে যতটুকু মাংস পান, শেষ বিকেলে কেউ খাওয়ার জন্য সামান্যটুকু রেখে বাকিটুকু তাদের মতোই দরিদ্রদের কাছে বিক্রি করে বাড়ি ফিরেন বলে জানান তারা।

এমইউ/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]