মুজিব কিল্লা নির্মাণে ধীরগতিতে সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২০

মুজিব কিল্লা নির্মাণ বা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা জানতে সাব-কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার জটিলতা ও কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সাব কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অনেকদিন হলো এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। এটা কেন হয়নি। এর কী জটিলতা। কোথায় কী অনিয়ম রয়েছে তা চিহ্নিত করার জন্য আমরা সাব-কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে সার্বিক বিষয় প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, মুজিব কিল্লা প্রকল্পের অগ্রগতি ও সর্বশেষ অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- জুয়েল আরেং ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওই সব মুজিব কেল্লা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিত্যক্ত কিল্লা সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে আরও মুজিব কিল্লা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকে ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল হচ্ছে জুলাই ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২১। সম্পূর্ণ রাজস্ব খাতভুক্ত এক হাজার ৯৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬ জেলার ৬৪ উপজেলা, বন্যা ও নদীভাঙনপ্রবণ ২২ জেলার ৮৪ উপজেলায় বিদ্যমান ১৭২টি মুজিব কিল্লা সংস্কার ও উন্নয়ন এবং ৩৭৮টি নতুন মুজিব কিল্লায় নির্মাণসহ মোট ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ হওয়ার কথা। সাড়ে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্পের দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চলমান বন্যায় সমান হারে বরাদ্দ না দিয়ে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করে চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, দেখা যাচ্ছে কোনো এলাকার কোথাও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি আবার কোথাও কম হয়েছে। কিন্তু দুটি এলাকায় একই পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে করে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য আমরা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করে বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেছি।

কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও কাজী কানিজ সুলতানা অংশগ্রহণ করেন।

এইচএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]