সবুজবাগে সুজন হত্যায় জড়িত কালা বাবু গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

শ্বাসরোধ ও পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে গুম করার চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি শেখ আলমগীর বাবুকে (কালা বাবু) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি বিশেষ টিম বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

২০১১ সালের ১৪ মার্চ মাটির ঠিকাদার মো. আব্দুল মান্নানের মেজো ছেলে সুজন (২৬) বন্ধু ফজলু কুটির সাথে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১৮ মার্চ দুপুরে সবুজবাগ থানাধীন দক্ষিণ রাজারবাগ বাগপাড়া শেষমাথা খালের ময়লা পানিতে কচুরিপানার সাথে ভাসমান অবস্থায় সুজনের মরদেহ পাওয়া যায়। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় ওই দিনই একটি মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, মামলাটি প্রথমে সবুজবাগ থানা পুলিশ ও পরবর্তীতে ডিএমপির ডিবি দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, আরিফুল হক আরিফ ও মো. রানা বাবু গ্রেফতার না হওয়ায় এবং পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর বাবা নারাজি আবেদন করেন। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পরে পিবিআই সুজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি কালা বাবুকে গতরাতে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইতিপূর্বে পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, আরিফ ও রানাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। তাদের মধ্যে আরিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে সুজন ইভাকে বিবাহ করেন এবং ২০০৯ সালে সুজনের স্ত্রী তাকে তালাক দেন। তালাক দিলেও ইভার বাড়ির আশপাশে যাওয়া-আসা করতেন সুজন।

গ্রেফতার কালা বাবু জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে জানান, ২০০৮ সালে সুজনের সাথে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে ইভা সুজনকে তালাক দেন। সুজন ইভাকে খুব ভালবাসতেন। তালাক দেয়ার পরও সুজন প্রায় সময় ইভাকে দেখার জন্য তাদের এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। ইভার সাথে সুজনের বিয়ে হওয়ার আগেই স্থানীয় ছেলে ফাইজুল ইভাকে পছন্দ করতেন। ফাইজুলের সাথে ইভার বড় ভাই আরিফ বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন। ফাইজুল বিভিন্ন সময় ইভাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো। এই ঘটনা নিয়ে ফাইজুল এবং ইভার বড় ভাই আরিফ ও সুজনের মধ্যে বিভিন্ন সময় তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। ওই সময় সুজন ইভার ভাই আরিফকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং আরিফ ও সুজনকে থাপ্পড় দেন।

তিনি আরও জানান, সুজনকে হত্যা করার ৭-৮ দিন আগে ফাইজুল সুজনকে মারধর করেন। পরে গত ২০১১ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যার পর আরিফুল হক, ফাইজুল তাদের বন্ধু কুটি ও কালা বাবু ইভাদের বাসার সামনে মাঠে বসে সুজনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মার্চ রাতে সন্ধ্যার পর হত্যা করে সুজনের মরদেহ পাশের খালে ফেলে দেয়। কুটি ও কালা বাবু খালের নিচে নেমে সুজনের মরদেহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়। পরে তারা সবাই এলাকায় চলে আসে। ওই ঘটনায় অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্ট্যা অব্যাহত আছে।

জেইউ/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]