নদী-খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবো : নৌ-প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

নদীগুলোর প্রবাহ নিশ্চিত এবং নদী-খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা শুধু একটি শহর নয়, ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ঢাকাকে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা ঢাকাকে রক্ষায় কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন হয়েছে, আমরা সেটিকে স্থায়ী রূপ দিতে কাজ করছি।'

তিনি বলেন, 'কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়; দেশ তথা ঢাকাবাসীরর স্বার্থে টাস্কফোর্স কাজ করছে। নদীগুলোর প্রবাহ নিশ্চিত করবো এবং নদী-খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবো।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবেশবিদদের সাথে নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু ২০০১ সালে খালেদা নিজামীর সরকার নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কোনো কাজ করেনি। যেখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী পর্যটন জেলা কক্সবাজারকে রক্ষায় কাজ করেছেন সেখানে বিএনপি সরকার প্লট দিয়ে সুন্দর পর্যটন জেলা কক্সবাজারকে নষ্ট করে দিয়েছে।'

নদী রক্ষায় যেসব সংগঠন কাজ করছে তাদের ধন্যবাদ জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র বলেন, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে এবং জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

ফজলে নূর তাপস বলেন, কামরাঙ্গীচর একটি আইল্যান্ড (দ্বীপ)। আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধার করে কামরাঙ্গীচরকে একটি অন্যতম সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে তোলা যাবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আগামী কিছুদিনের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জানানো হয় যে, পরিবেশ অধিদফতর শিল্প কারখানায় অভিযান চালিয়ে পানি দূষণের জন্য ২০১৩ সালের জুলাই থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত ১৬৪ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করেছে। এ পর্যন্ত ৮৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে।

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে স্থাপিত কেন্দ্রীয় শোধনাগারের কিছু সমস্যা ছিল। এখন কারিগরি বা অন্যান্য সমস্যা নেই। কেন্দ্রীয় শোধনাগাটি ১০০ ভাগ কাজ করছে। সেখান থেকে ভালো পানি ডিসচার্জ হচ্ছে। নদীর পানি দূষিত হচ্ছে না বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে অনেক জেলায় নদী তীর ভেঙে যাচ্ছে। নদী তীর ভাঙনরোধে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি উঠে আসে বৈঠকে।

বৈঠকে অনলাইনে যোগ দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পানি সম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, তথ্য সচিব কামরুন নাহার।

আরএমএম/এনএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]