‘রাজনৈতিক দল গঠনে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৯ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

কোনো রাজনৈতিক দল গঠন ও পরিচালনা করতে নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সকল ‘অগণতান্ত্রিক’ প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিলের দাবি পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স রুমে এ সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দলের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক সংরক্ষণ, এক নামে একাধিক রাজনৈতিক দল যাতে গড়ে উঠতে না পারে তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগের তৎকালীন সময়ে নিবন্ধন ছিল না। অনিবন্ধিত অবস্থায় বারবার ক্ষমতায় যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকার এক-এগারোর অরাজনৈতিক সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত কালো আইনটি বাতিল করেনি। বরং আইনটিকে সহজীকরণের পরিবর্তে বহুগুণ কঠিন করে তোলায় দেশপ্রেমিক জনগণ চরমভাবে হতাশ হয়েছে।

তারা আরও বলেন, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যে বিষয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোনো দেশ সাহস দেখাতে পারেনি। এমনকি এ শর্ত পূরণের মুচলেকা দিয়ে নিবন্ধন পাওয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ কোনো বড় দলই তা পূরণ করতে পারেনি। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলে ১ শতাংশ ভোটারের আগাম স্বাক্ষরযুক্ত কাগজপত্র জমাদানের বিধান, গোপন ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘নখদন্তহীন বাঘে’ পরিণত হয়েছে। রাতের আঁধারে ব্যালট বাক্স ভরা ভোটাদেরকে কেন্দ্র বিমুখ করেছে। দেশের জনসাধারণ নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জনগণের আস্থা ফেরাতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ আইনের ৯০বি ধারা বাতিল ও নির্বাচন কমিশনের সকল অগণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা বন্ধসহ নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানো জরুরি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিলের দাবি পরিষ;র আহ্বায়ক ও সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিষদের সদস্য সচিব ও গণমুক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনেম।

এতে আরও অংশগ্রহণ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সামছুল আলম, গ্রিন পার্টির চেয়ারম্যান রাজু আহম্মদ খান, বাংলাদেশ জাতীয় লীগের কো-চেয়ারম্যান শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, বেকার সমাজের সভাপতি মো. হাসান, সম্মিলিত গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান গাজী মোস্তাফিজুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

এইচএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]