যৌন হয়রানির মামলায় সম্মানহানি : জড়িতদের বিচার দাবি শাফিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সম্মানহানি ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন ইংলিশ স্পোকেন ও আইইএলটিএস প্রশিক্ষণ সেন্টার ‘শাফিন’স এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ বুলবুল আহমেদ (শাফিন)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।

শাফিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ভুয়া যৌন হয়রানির মামলা করেছিল একটি কুচক্রীমহল। অথচ মামলার এজাহারে যে সময় উল্লেখ করা হয় সে সময় দেশেই ছিলাম না। এমনকি মামলার কথিত বাদী সাদিয়া আফরিনের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি পুলিশ।

তিনি বলেন, মামলায় একাধিকবার আদালতে হাজিরা দিয়েছি। কিন্তু বাদী সাদিয়া আফরিন একবারও আসেনি। অবশেষে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত।

শেখ বুলবুল আহমেদ বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ইংলিশ স্পোকেন ও আইইএলটিএস প্রশিক্ষণ সেন্টার ‘শাফিন’স এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি পেশাজীবীদের ইংরেজি ভাষা শিখিয়ে আসছি। পাশাপাশি পাঁচ বছর ধরে একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অনলাইনে ফ্রি ইংলিশ শিখিয়ে আসছি। যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিনামূল্যে ইংরেজি ভাষা শিখতে পারছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে শেখ বুলবুল আহমেদের স্যুপে ব্যাটারি পাওয়া নিয়ে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ওই ঘটনার পরই একটি মহল তার ব্যবসায়িক ক্ষতি ও সম্মানহানির জন্য তৎপরতা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাইয়ে তারই কোচিং সেন্টারের ছাত্রী পরিচয়ে সাদিয়া আরফিন নামের এক তরুণী যৌন হয়রানির মামলা করেন। যা আদালতে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

শাফিন বলেন, আমাকে হয়রানি করতে ও সম্মানহানির জন্য অদৃশ্য ওই মহল বেশকিছু প্রভাবশালী ইউটিউবারকে কাজে লাগায়। এমনকি বেশকিছু গণমাধ্যমেও আমাকে দোষী করে সংবাদ প্রকাশ হয়। যে তারিখে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে সে তারিখে আমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে এই মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক আখ্যায়িত করা হয় এবং পুলিশি তদন্তে অভিযোগকারী সেই শিক্ষার্থীর ঠিকানা ভুয়া হিসেবেও প্রমাণিত হয়।

শেখ বুলবুল বলেন, এ ঘটনায় এখনও আমি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। নিকটজনদের কাছেও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমি আমার হারানো সম্মান ফিরে পেতে চাই। আমার প্রতিষ্ঠানটিকে আগের মতো করে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, কথিত সাদিয়া আরফিন মামলায় উল্লেখ করেন ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর আমি তাকে যৌন হয়রানি করি। অথচ ওই সময় আমি দেশেই ছিলাম না। তার চারদিন আগে আমি বিদেশের উদ্দেশে যাত্রা করি। বাদী সাদিয়া আরফিনের অভিযোগটি যে মিথ্যা ছিল তার প্রমাণ করতে আদালতের কাছে আমার পাসপোর্টের মূলকপি পেশ করি। আদালত পাসপোর্টের মূলকপি দেখে আমাকে জামিন দেন।

শাফিন আরও জানান, ইতোমধ্যেই তিনি ইউটিউবের মাধ্যমে তার সম্মানহানি করায় তাহসিনেশন ও নাসিম নামে দুই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বাদী শিক্ষার্থীর খোঁজ না পাওয়ায় মামলা করতে পারছেন না।

এমইউএইচ/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]