যিনি দর্জি, তিনিই চিকিৎসক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘গোপন সূত্রে খবর পেলাম এমন এক ডাক্তারের (চিকিৎসক), যিনি সকল প্রকার রোগের চিকিৎসা করেন। কৌতূহলবশত ওই ডাক্তারকে একবার দেখার ইচ্ছায় তার চেম্বারে গেলাম। কিন্তু একি, ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে গিয়ে দেখি, তিনি গলায় স্টেথোস্কোপের বদলে ফিতা ঝুলিয়ে কাপড় কাটছেন!’

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটগাজারীর বুড়িশ্চর এলাকায় অভিযান শেষে জাগো নিউজের কাছে এভাবেই অভিযানের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বুড়িশ্চরের তেঁতুলতলা এলাকায় নার্গিস আক্তার নামে এক নারী নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলেও তার ন্যূনতম নার্সিং কোর্সেরও অভিজ্ঞতা নেই। সেই অবস্থায়ই তিনি দিব্যি ফার্মেসি ব্যবসা এবং কথিত ডাক্তারি পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়; যেখানে তিনি ‘ডাক্তারি’ করেন তার পাশেই আবার ‘টেইলার্স’ ব্যবসা, সেখানে তিনিই কারিগর!”

ctg-03.jpg

নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, “ফার্মেসির সাইনবোর্ডে লেখা আছে, ‘সকল প্রকার রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়’। অন্যদিকে নিজেকে ডাক্তার প্রমাণে ছাপিয়েছেন ভিজিটিং কার্ডও। পাশেই টেইলার্সের দোকান। এখানে পেশা দুটি হলেও মানুষ তিনি একজনই। অর্থাৎ যিনি দর্জি, তিনিই আবার ডাক্তার।”

অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ভুয়া ডাক্তারের কথোপকথনের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

ম্যাজিস্ট্রেট : আপনি কি ডাক্তার, নাকি টেইলার্সের কারিগর?
নারী : দুটোই

ম্যাজিস্ট্রেট : ডাক্তারি করছেন ভালো কথা, এমবিবিএস ডিগ্রি আছে?
নারী : না, আমার নার্সিং কোর্স করা আছে।

ctg-03.jpg

ম্যাজিস্ট্রেট : আপনার ভিজিটিং কার্ডে কয়েকটা ক্লিনিকের নাম দেখতে পাচ্ছি, এগুলোর বিষয় কী?

নারী : এখানে আমি নার্স হিসেবে চাকরি করেছি।

ম্যাজিস্ট্রেট : নার্স তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ পেশা। এটা ছেড়ে হুট করেই ডাক্তার হতে গেলেন কেন?

নারী : আমার কোর্স করা আছে, এজন্য ডাক্তার লিখেছি। অনেকেই তো লেখে, আমি লিখলে দোষ কী!

ctg-03.jpg

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই ঘটনার পর অত্র এলাকার চেয়ারম্যান ও তিন মেম্বারকে ডেকে আনা হয়। কিন্তু শাস্তি দিতে গিয়ে দেখি, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। পাঁচ ও ছয় বছরের দুটা সন্তান আছে। তারা তাদের মায়ের সঙ্গেই থাকে। তাই জেল-জরিমানা না করে, হয় লাইসেন্স নিয়ে ফার্মেসি ব্যবসা, অন্যথায় টেইলার্স পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন থেকে যেন ভুয়া ডাক্তারি করতে না পারে, সেটি দেখাশোনার জন্য জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

আবু আজাদ/এমএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]