মাহবুবে আলমের কর্মময় জীবন নতুনদের জন্য অনুকরণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কর্মময় জীবন আগামী দিনের আইনজীবীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মাহবুবে আলমের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, মাহবুবে আলম অনেক শিক্ষণীয় বিষয় দেখিয়েছেন, করে গেছেন এবং বলেছেন। যারা তাকে দেখেননি, যারা তার সম্পর্কে জানেন না তাদের মাহবুবে আলমের আদর্শগুলো জেনে অনুসরণ করার চেষ্টা করার অনুরোধ জানাই।

আইনমন্ত্রী মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আজ সুপ্রিম কোর্ট আছে কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল নেই। এটা মেনে নিতে পারছি না। তার এই চলে যাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট তথা সারাদেশের আইন অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার তৈরি হলো।

আইনমন্ত্রী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে চিনি ও জানি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাসহ অনেক মামলা একসঙ্গে পরিচালনা করেছি। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। নিজ কর্মগুণেই তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয় অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুবে আলমকে।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় ইমামতি করেন সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের পেশ ইমাম আবু সালেহ মো. সলিম উল্লাহ। এরপর সহকর্মী, বিভিন্ন সংগঠন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার মরদেহে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানানো হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবে আলম। সোমবার সকালে বেইলি রোডের সরকারি বাসায় তার মরদেহ আনা হয়। সেখান থেকে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে তার মরদেহবাহী গাড়ি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের দিকে রওনা হয়। ১০টা ৪১ মিনিটের দিকে গাড়িটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছায়।

জ্বর ও গলাব্যথা নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি সিএমএইচে ভর্তি হন। ওই দিনই করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের এ সিনিয়র আইনজীবী ১৯৭৫ সালে হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। সর্বশেষ টানা ১১ বছর দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।

মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্ট বারের ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যা, সংবিধানের এয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনীসহ ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি শোক প্রকাশ করেছেন।

এফএইচ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]