ধুনটে অবৈধ চাল ও কার্ড জব্দ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই নেতার গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ১০০ মণ চাল ও গরিবের ১৩০টি কার্ড জব্দ করা হয়েছে। উপজেলার সহকারী ভূমি কমিশনার আব্দুল্লাহ আল রনি সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বাবু বাজার এলাকার গুদাম থেকে এগুলো জব্দ করেন।

পজেলার নিমগাছী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলীর মেসার্স তিন ভাই ট্রেডার্স অ্যান্ড সেমি অটোরাইস মিলের গুদাম থেকে ১০ টাকা কেজির ১০০ মণ (৫১ বস্তা) চাল এবং একই স্থান থেকে নিমগাছী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাদি মন্ডলের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির কেন্দ্র থেকে ১৩০টি কার্ড জব্দ করা হয়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির পরিবেশক (ডিলার) আব্দুল হাদি মন্ডল। তার অধীনে ৭১০টি কার্ড রয়েছে। তিনি সেপ্টেম্বর মাসের ৭১০টি কার্ডের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ২১ হাজার ৩০ কেজি চাল ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন। এরপর বাবু বাজার এলাকায় বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিক্রি করেন। সোমবার দ্বিতীয় দিনের চাল বিক্রিকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাদির চাল বিক্রির কেন্দ্রে থেকে অবৈধভাবে রক্ষিত ১৩০টি কার্ড জব্দ করা হয়। একই সময় আওয়ামী লীগ নেতা নবাব আলীর মালিকানাধীন গুদামে অভিযান চালিয়ে ১০ টাকা কেজি দরের ১০০ মণ চাল জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নবাব আলী বলেন, আমার গুদামে রক্ষিত ১০০ মণ চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল না। এগুলো আমার মিলে ব্যবসায়িক ধান ভাঙিয়ে এই চাল বস্তায় ভরে রাখা হয়েছে। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আমার গুদামে অভিযান চালিয়ে চাল জব্দ করেছে প্রশাসন।

১০ টাকা কেজির চালের ডিলার আব্দুল হাদি মন্ডল বলেন, ১৩০টি কার্ডের নাম পরিবর্তন করে উপজেলা খাদ্য বিভাগের নির্দেশে আমার কাছে রেখেছিলাম। এসব কার্ডের নাম পরিবর্তন করে কার্ডধারীদের দেয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে আমার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।

ধুনট উপজেলার সহাকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আলী রনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাল সন্দেহ ৫১ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ডিলারের কাছে অবৈধভাবে রাখা ১৩০টি কার্ড জব্দও করা হয়েছে। এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এমএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]