মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সের ভাড়া বেড়েছে চার থেকে ছয় গুণ!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন গন্তব্যের এয়ার টিকিট সঙ্কটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা। ভিসা ও আকামার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে এয়ার টিকিট হন্য হয়ে খুঁজেছেন প্রবাসীরা। তবে হঠাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে অপারেটিং এয়ারলাইন্সগুলোর ঘোষিত টিকিটের মূল্য চার থেকে ছয় গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এয়ার টিকিট এখন সোনার হরিণ।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাহারাইনে করোনা পূর্ব সময়ে এয়ারলাইন্সের ভাড়া ছিল ৩০-৩৫ হাজার টাকা। এখন নেয়া হচ্ছে এক লাখ ২০ থেকে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা।

কাতারের দোহারে করোনা পূর্ব সময়ে এয়ারলাইন্সের ভাড়া ছিল ২৫-৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে নেয়া হচ্ছে ৫৫-৬০ হাজার টাকা।

সৌদি আরবের রিয়াদে করোনার আগে ভাড়া ছিল ৩৫-৪৫ হাজার টাকা। বর্তমানে সেই ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। সৌদির জেদ্দায় করোনা পূর্ব সময়ে ভাড়া ছিল ৪০-৫০ হাজার টাকা। সেই ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার থেকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বর্তমানে ঢাকা-নিউইয়র্ক ঢাকা আসা যাওয়ার ভাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনস ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। বর্তমানে একই এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে রিয়াদ শুধুমাত্র যাওয়ার ভাড়া নিচ্ছে এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এয়ারলাইন্সগুলো এয়ার টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কেউ কেউ বলছেন, টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ট্রাভেল এজেন্ট দায়ী। তবে অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেলস এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) নেতৃবৃন্দ বলছেন ভিন্ন কথা।
তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের এয়ারলাইন্সগুলো অস্বাভাবিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তারা বলেন, টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ট্রাভেল এজেন্টগুলো কোনোভাবেই দায়ী নয়। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো এয়ারলাইন্স কর্তৃক প্রকাশিত ভাড়ার বেশি কখনোই নেয় না। এয়ারলাইন্স কর্তৃক প্রকাশিত ভাড়ার মধ্যে ট্রাভেল এজেন্সির জন্য সর্বোচ্চ সাত শতাংশ কমিশন নির্ধারিত আছে। এর বাইরে ট্রাভেল এজেন্সি কোনো টাকা নেয় না।

আটাব সভাপতি মনসুর আহমেদ কালাম এবং মহাসচিব মো. মাজহারুল এইচ ভূইয়া সম্প্রতি টিকিট বুকিংয়ের বিষয়ে এক পর্যবেক্ষণে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট বুকিংয়ের বিষয়ে আটাব সদস্যদের দায়ী করে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আটাবের বক্তব্য হলো-এয়ারলাইন্সের টিকিট বুকিং অনলাইন সিস্টেমে যখন উন্মুক্ত করা হয় তখন পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে অনলাইনে টিকিট বুক করা যায়। বুকিংয়ের সময় যাত্রীর নাম পাসপোর্ট নাম্বার পাসপোর্টের মেয়াদ জন্ম তারিখ ইত্যাদি তথ্য দিয়ে অনলাইনে বুকিং সম্পন্ন করতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিট ইস্যু করতে হয়। টিকিটের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এয়ারলাইন্সের সেন্ট্রাল সিসটেমে সংরক্ষিত থাকে। এ তথ্য কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যায় না। যার নামে বুকিং তাকেই ভ্রমণ করতে হবে। তাই সঙ্গত কারণে বেনামে কোনো বুকিং করা কখনও সম্ভব নয় বা একজনের বুকিংয়ে অন্যজনের ভ্রমণ সম্ভব নয়।

মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী যাত্রীদের সঙ্কট সমাধানে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে আটাব।

প্রস্তাবনা সমূহ

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভ্রমণের জন্য বিমান সৌদিয়াসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ভাড়া বৃদ্ধি না করে পূর্বের মত বহাল রাখা। প্রয়োজনে ভাড়া সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সরকারিভাবে ডাটাবেজ তৈরি করে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভিসার মেয়াদ দেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্লাইট পরিচালনা করা। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভিসার মেয়াদের ভিত্তিতে ফ্লাইট নির্ধারণ ও টিকিটের ব্যবস্থা করে গন্তব্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। রিটার্ন টিকিটধারী যাত্রীদের এয়ারলাইন্স কর্তৃক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।

করোনায় ফ্লাইট বাতিলের কারণে যেসব যাত্রী নিজ গন্তব্যে যেতে পারেননি তাদের পুনরায় ফ্লাইট দেয়ার সময় এয়ারলাইন্স থেকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ না নেয়া।

এমইউ/এএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]