এয়ার কার্গোতে চাকরি : তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ লালুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

একের পর এক ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলেছেন, সেখানে টাকার বিনিময়ে লোক নিয়ে তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার কার্গো বিভাগে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি বাবদ হাতিয়ে নিয়েছেন দুই থেকে তিন কোটি টাকা।

প্রায় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া আমিনুর ইসলাম লালুকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে সোমবার তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় মামলা করেন একজন ভুক্তভোগী। মামলার প্রধান আসামি করা হয় আমিনুর ইসলাম লালুকে। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিসানুল হক জানান, লালু কয়েকটি ভুয়া আউটসোর্সিং কোম্পানি খুলে সেসব কোম্পানির মাধ্যমে বিমানবন্দরে চাকরি দেয়ার জন্য চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে- এনবিজি এয়ার কার্গো লিমিটেড, নর্থ বেঙ্গল আউটসোর্সিং লিমিটেড, বগুড়া ডেভেলপার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, বগুড়া ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, মেসার্স হযরত শাহ্ আলী বোগদাদী (রা.) এন্টারপ্রাইজ, নর্থ বেঙ্গল বাজার বিডি লিমিটেড, মেসার্স নুরে মুজেসসুম কর্পোরেশন, এনবিও সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড ও মেসার্স গরিবে নেওয়াজ এন্টারপ্রাইজ।

সিআইডি কর্মকর্তা জিসানুল হক জানান, লালু এসব কোম্পানি খুলে এখান থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এয়ার কার্গো বিভাগের বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার নাম করে প্রায় দুই শতাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভিকটিম পার্থ পালকে (মামলার বাদী) পিয়ন পদে চাকরি দেয়ার জন্য দুই লাখ টাকা নেন।

lalu-1

এছাড়া ভিক্টিম অজয় রায় ও অনুতম বর্মন থেকে সুপার ভাইজার পদের জন্য দুই লাখ ১৫ হাজার, লোডার পদের জন্য পলাশ চন্দ্র থেকে এক লাখ ৫০ হাজার, প্রিয় রঞ্জনেরর কাছ থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদের জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার, নাঈম রানা ও পবিত্র পালের কাছ থেকে অ্যাসিসটেন্ট পদের জন্য দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে সিআইডি'র সহায়তা চান। এরই ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে আমিনুর ইসলাম লালুকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে লালুর গ্রেফতারের সংবাদ পেয়ে ৫০-৬০ জন ভিকটিম সিআইডি অফিসে হাজির হন। যাদের কাছ থেকে প্রতারক চক্রটি ইতোমধ্যে প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

লালুকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৭৩টি ইসলামী ব্যাংক লি. এর ডেবিট কার্ড, নর্থ বেঙ্গল আউট সোর্সিং লিমিটেডের ইস্যু করা বিভিন্ন কর্মচারীর নামে ৯০টি আইডি কার্ড, একটি কম্পিউটার সিপিইউ, একটি প্রিন্টার, লালুর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে সাতটি ব্যাংকের চেক বই, দুটি পাসপোর্ট, নর্থ বেঙ্গল আউটসোর্সিং লি. এর ফর্মে বিভিন্ন পদের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের আবেদপত্র ৮৪টি, লালুর নিজের তিনটি এটিএম কার্ড, এনবিজি এয়ার কার্গো লিমিটেডের প্যাডে আসামি আমিনুর ইসলাম লালু স্বাক্ষরিত পুলিশ তদন্ত রিপোর্টে অতিরিক্ত আইজিপি স্পেশাল ব্রাঞ্চ মালিবাগ, ঢাকা বরাবর প্রেরিত আবেদনপত্র ১১টি।

আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এআর/এমএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]