উচ্চতর গ্রেড পেলেন সঞ্চয় অধিদফতরের ১১ সহকারী পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

অবশেষে উচ্চতর গ্রেড (৬ষ্ঠ গ্রেড) পেলেন জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের ১১ কর্মকর্তা। এ কর্মকর্তাদের মধ্যে কারো কারো গ্রেড কার্যকর ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ গত ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

আদেশে বলা হয়, অর্থ বিভাগের পরিপত্র মোতাবেক জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের ১১ সহকারী পরিচালকের অনুকূলে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড (৬ষ্ঠ গ্রেড) (৩৫ হাজার ৫০০-৬৭ হাজার ১০০ টাকা) মঞ্জুর করা হলো।

১১ পরিচালক হচ্ছেন- এইচ, এম, তরিকুল ইসলাম (২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর থেকে তার উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে), মো. মাসুদুর রহমান (২০১৯ সালের ৮ জুন থেকে তার উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে), মো. একরামুল হক (২০১৯ সালের ৮ জুন থেকে তার উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে), কাজী হাসান উল্লাহ (২০১৯ সালের ৮ জুন থেকে তার উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে), মোহাম্মদ মনির হোসেন (২০১৯ সালের ৮ জুন থেকে তার উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে)।

এ ছাড়া মোহাম্মদ ময়েন উদ্দিনের ২০১৯ সালের ১২ জুন থেকে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে। মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান এবং মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে।

দুই জনের ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়েছে। এরা হচ্ছেন- মো. আবু সাঈদ এবং সুলতানা জাকিয়া।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল, একই পদে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী দুই বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। তবে এরই মধ্যে একটি মাত্র টাইম স্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড পেলে নতুন স্কেলে শুধু একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

কিন্তু ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবীরা রিট করলে ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিষয়টি এখন হাইকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। তাই সরকারি কর্মচারী দুই বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড কয়টা পাবেন এসব বিষয়ে কোনো মতামত দেয়নি অর্থ বিভাগ। এ বিষয়ে আপিল বিভাগ যতদিন পর্যন্ত কোনো রায় না দিতে পারেন, অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

তবে যেসব সরকারি কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর একবারও পদোন্নতি পাননি, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার ক্ষেত্রে গত ১৬ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এর প্রেক্ষিতে অর্থবিভাগ গত ১৩ সেপ্টেম্বর হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ৭ (১) এর অধীনে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণে কোনো বাধা নেই।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে নিচের স্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। এসব পদোন্নতি বঞ্চিতদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুল আলোচিত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পুরনো প্রথা জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ বাতিল করা হয়। তবে নতুন বেতনস্কেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড প্রথা প্রবর্তন করা হয়। বেতনস্কেলে ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ৭ (১) অনুযায়ী কোনো কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এর মধ্যে একটি পাবেন চাকরির ১০ বছর পর ১১তম বছরে। অপরটি ১৬ বছর পর ১৭তম বছরে।

মূল পে স্কেলে এ বিধান করা হলেও এ সুবিধা কীভাবে দেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। এ প্রেক্ষাপটে মূল পে স্কেলে দেয়া উল্লিখিত নিয়ম কার্যকর করতে স্পষ্টীকরণের ব্যাখ্যা দিয়ে ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। কিন্তু ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবীরা রিট করে। এরপর সরকারি চাকরিজীবীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের দেয়া পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণ করে দেয়া ব্যাখ্যা মূল পে স্কেলের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ফলে এ সংক্রান্ত পরিপত্রটি অবৈধ। পরে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে আপিল করলে বিষয়টি বর্তমান আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

এমইউএইচ/এনএফ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]