বিশ্বের ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাকের ৩টি স্কুল

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

চলমান বিশ্ব শিক্ষা সপ্তাহে সবার জন্য উচ্চতর এবং উন্নতমানের শিক্ষা প্রসারে তাদের সর্বোত্তম কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বব্যাপী ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাকের তিনটি স্কুল স্থান পেয়েছে। শিক্ষকদের উন্নয়নে কাজ করা আন্তর্জাতিক ফোরাম ‘টি-ফোর’ আয়োজিত এক ইভেন্টে এই ঘোষণা আসে।

বিশ্ব শিক্ষা সপ্তাহের জন্য নির্বাচিত তিনটি স্কুল হলো- সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ভাটি জামালগড় ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেত্রকোনার কান্দাপাড়া পশ্চিম ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জের সাউদেরশ্রী ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ব্র্যাকের সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার মাহবুবুল আলম কবীর প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ উপলক্ষে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ৫ থেকে ৯ অক্টোবর অনলাইনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলগুলো এই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে এবং তা বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হবে।

উদ্বোধনী দিন সোমবার (৫ অক্টোবর) তাহিরপুরের হাওর এলাকার ভাটি জামালগড়ে ব্র্যাকের শিক্ষাতরীতে (বোট স্কুল) এই উপলক্ষে ১ ঘণ্টার অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তনের নিরিখে স্কুলগুলোকে আরও প্রাণোচ্ছল করে তোলা’।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষিত করার জন্য একটি অনন্য উদ্ভাবন এই নৌকা স্কুল। যারা স্কুলে যেতে পারে না বা গেলেও ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) ঝুঁকি থাকে, তাদের পড়াশোনায় নিয়ে আসার ধারণাটি এখানে দৃশ্যমান হয়। বর্তমানে সারাদেশের ১৬টি জেলার নিচু এলাকায় মোট ৬০০টি নৌকা স্কুল চালু রয়েছে। এই স্কুলগুলোর শিক্ষকও স্থানীয় তরুণী যারা প্রতিটি শ্রেণিতে ৩০ জন ছাত্রকে পড়ান।

সোমবার এ ডিজিটাল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের পরিচালক নবনীতা চৌধুরী।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ ও চলাচলের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিধিনিষেধের প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার ওপর পড়ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের অন্যের সাথে মিথস্ক্রিয়া করা, মাঠে খেলাধুলা করা, নির্দ্বিধায় চলাফেরা এবং শিক্ষকদের সংস্পর্শে আসাসহ সামগ্রিক স্কুলের পরিবেশ উপভোগ করা সীমিত হয়ে পড়েছে। এরকম পরিস্থিতি তাদেরকে কুসংস্কারের দিকে ধাবিত করতে পারে।

এই নৌকা স্কুলগুলোর মাধ্যমে কীভাবে জলবায়ু সহনশীলতার ধারণাটি প্রকাশ পায়, তা ব্যাখ্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।

তিনি বলেন, ব্র্যাক ‘নো-প্লাস্টিক পলিসি’ অনুসরণ করছে এবং নৌকা স্কুলে যে জলবায়ুবান্ধব অভ্যাসগুলোর চর্চা করা হয়, তার মধ্যে এটি অন্যতম। এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসব দ্রব্যের পুনর্ব্যবহার ও ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সচেতন। শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য স্কুলগুলো আঞ্চলিক পাঠক্রমে পরিবেশগত শিক্ষার উপাদানগুলোও অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে টেকসই ভবিষ্যতের দিকে রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত হয় শিক্ষার্থীরা।

এই শিক্ষা ব্যবস্থাটি সাধারণত সর্বাত্মক কল্যাণকেই আহ্বান করে বলে মন্তব্য করেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নৌকা স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সমাজ-সংবেদনশীল এবং পরিবেশগত উন্নতির বিভিন্ন মাত্রা নিশ্চিত করে।

বক্তারা বলেন, এই নৌকা স্কুলের ধারণা জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত বিশ্বে শিক্ষার প্রসারে সহায়তা করতে পারে। দক্ষতা বা মানের বিষয়ে কোনো আপস না করে নৌকা স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা চার বছরেই সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন তারা।

এমইউ/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]