তোফায়েল-আমু যে পার্লামেন্টে, সেখানে এমন ব্যক্তি কী করে আসে?

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫২ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২০

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে ইমেডিয়েটলি (তাৎক্ষণিক) গ্রেফতার করতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ওই সংসদ সদস্য শুধু নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনই করেননি, তিনি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন।

ফরিদপুরের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর সম্প্রতি স্থানীয় একটি নির্বাচনকে ঘিরে ফোনালাপ ফাঁস হয়, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়, সাখাওয়াত হোসেনের কাছে।

তিনি বলেন, ফোনালাপ এবং ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি মিডিয়ার মাধ্যমে। অবাক হয়েছি। একজন সংসদ সদস্য কী করে এমন আচরণ করতে পারেন! বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ বা এই সময়ের তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু যে পার্লামেন্টে, সেই পার্লামেন্টে এমন ব্যক্তি কী করে নির্বাচিত হয়ে আসে?

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত এক দশকে যে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, তার প্রমাণ হচ্ছে এই ফোনালাপ। দল বা ব্যক্তির চাপে নির্বাচন কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তা ওই সংসদ সদস্যের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশন কী করার ক্ষমতা রাখে এক্ষেত্রে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবই করতে পারেন। প্রথমত, এই নির্বাচনটি বাতিল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে গ্রেফতারও করার ক্ষমতা রাখে।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে, নির্বাচন কমিশন তাতে আন্তরিক কিনা? কারণ হুমকি-ধামকি দিয়ে তিনি স্পষ্টত ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন এমন অপরাধ করার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, যা মানুষের অনাস্থা তৈরি করেছে। এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন পরবর্তী বিজয় সমাবেশে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফরিদপুরের ডিসিকে হুঁশিয়ারি দেন এমপি নিক্সন। সমাবেশে এমপি নিক্সন বলেন, প্রশাসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ওই জেলা প্রশাসক শেখ হাসিনার চোখ ফাঁকি দিয়ে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে নৌকার কর্মীদের গ্রেফতার করেছেন, পিটিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসককে সাবধান করব আপনি ফরিদপুরে দেখেছেন অনেক বড় বড় নেতার পতন হইছে। ওই বরকত-রুবেলের যত অন্যায়-দুর্নীতি তার সঙ্গে আপনার জেলা প্রশাসনের লোকজন জড়িত। বরকত-রুবেলের বিচার হলে জেলা প্রশাসকেরও বিচার হবে। কারণ ওই দিপু খাঁর (আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী কেএম ওবায়দুল বারী) বালুর ব্যবসার ভাগ পান জেলা প্রশাসক।’

এমপি নিক্সন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্য বলব, আপনি যত বড় উপদেষ্টার নাতি হোন না কেন; আপনি নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে চোখ রাঙাইয়া কথা বলবেন না। আমি যদি জনগণ নিয়া আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামি, আপনি নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, আমার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছেন, নৌকার এজেন্টদের গ্রেফতার করেছেন, এসব নিয়ে রাস্তায় নামলে আপনি এক মিনিটও দম নেয়ার সুযোগ পাবেন না।’

বক্তব্যের এই পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে যাবতীয় আপত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন নিক্সনের অনুসারীরা। ওই সমাবেশের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এমপি নিক্সন আরও বলেন, ‘তিনি (ডিসি) এক উপদেষ্টার ভয় দেখান। তিনি মনে করেন ওই উপদেষ্টা তার ক্ষমতা। আরে এমন কত উপদেষ্টা দেখলাম মিয়া, কাজী জাফরউল্লাহর বেল নাই আর আপনি উপদেষ্টার ভয় দেখান। সরকারি চাকরি করেন; বিএনপি নেতাদের চেযারম্যান বানানোর জন্য না। যুবদলের প্রেসিডেন্ট দিপু খাঁর বালুর ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা ডিসি ঘুষ নিচ্ছেন বলেই আজ এ অবস্থা। আমরা এর বিচার অবশ্যই করব; আমরা এর বিচার চাই।’

এদিকে এ ঘটনায় নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। বুধবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিইসি।

নুরুল হুদা বলেন, ‘ফরিদপুর নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। সংসদ সদস্য নিক্সন সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা করব। হয়তো আজ বা কালকের মধ্যে থানায় মামলা রুজু হয়ে যাবে। নির্বাচন বিধিবহির্ভূত আচরণের জন্য আমাদের কাছে আলামত আছে যথেষ্ট, সেজন্য মামলা হবে। থানায় তদন্ত করে যে রকম পাবে, সে রকম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এএসএস/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]