করোনাকালে দেশে কমেছে ইন্টারনেট স্বাধীনতা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

বাংলাদেশে ইন্টারনেট স্বাধীনতা গত এক বছরের তুলনায় আরও কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের ৬৫টি দেশে জরিপ চালিয়ে ইন্টারনেট স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ফ্রিডম হাউজ।

ফ্রিডম হাউজের ইন্টারনেট স্বাধীনতা সূচকে গত এক বছরে দুই পয়েন্ট পিছিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ১০০ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশকে ৪২ পয়েন্ট দিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ফ্রিডম হাউজ মোট তিন বিভাগে স্কোর দিয়ে থাকে- ইন্টারনেট প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতা (২৫), কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু প্রকাশের সীমাবদ্ধতা (৩৫) ও ব্যবহারকারীর অধিকার লঙ্ঘন (৪০) অর্থাৎ মোট ১০০। এই তিন বিভাগে বাংলাদেশ যথাক্রমে পেয়েছে ১৩, ১৭ ও ১২ পয়েন্ট।

প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ ২৯টি দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার ‘আংশিক স্বাধীন’। পাকিস্তান, চীন, কিউবা, ইথিওপিয়াসহ ২২টি দেশে ইন্টারনেট স্বাধীনতা একেবারেই নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, ইতালি, জার্মানিসহ ১৫টি দেশে ইন্টারনেট স্বাধীন বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশকে নিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট স্বাধীনতা আরও সীমিত হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে সরকার অনলাইন বিচরণক্ষেত্র কমানো ও সমালোচনাকারীদের দমাতে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বহু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে, নির্দিষ্ট করে টার্গেট করে নিপীড়ন বাড়িয়েছে, সাংবাদিক ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ইন্টারনেটে কনটেন্ট পরিবর্তন করা ও প্রযুক্তিগত আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে সরকার কতটা পারঙ্গম, তা বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শিবিরে তৃতীয় প্রজন্ম (থ্রি-জি) ও চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কাছে সিম বিক্রি বন্ধ করতেও নির্দেশ জারি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির মধ্যে দমনমূলক ডিএসএর অধীনে গ্রেফতার বেড়েছে। এছাড়া ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সরকার ৫০টি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। এর মধ্যে সুইডেন থেকে প্রকাশিত নেত্র নিউজ ও মালয়েশিয়া-ভিত্তিক বেনার নিউজের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণও রয়েছে। তারা বাংলাদেশে করোনার গুরুতর প্রভাব বিষয়ক জাতিসংঘের একটি মেমো প্রকাশের পরপরই সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]