নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, ৩ জনের নামে মামলা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:২৮ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

সৈয়দ আমানত আলী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের প্রেমতলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৫তলা থেকে ৩৭ কেজি ওজনের লোহার রড পড়ে নাহার বেগম (৩৯) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পল্টু বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনের নামে মামলা (মামলা নং-৭৭) করেন। আসামিরা হলেন- মো. আকবর (৫৫), মো. আলম (৪০) ও মো. শামীম (৪২)।

নিহতের স্বামী পল্টু জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আমার স্ত্রী বাসার পাশে একটি নারিকেল গাছের নিচে বসেছিল। হঠাৎ পাশের পাঁচতলা ভবনের ৫তলা থেকে ৩৭ কেজি ওজনের একটি লোহার রড আমার স্ত্রীর মাথায় পড়ে। আমি খবর পেয়ে তাকে নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, আকবর কোন সেফটি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। একটি বিল্ডিং বানাতে হলে তার কিছু নিয়মকানুন আছে। কিন্তু তিনি তার কোনোটিই মানেননি। এ জন্য আমার স্ত্রীকে অকালে প্রাণ দিতে হলো। আজ যদি তিনি এখানে নিয়ম মেনে কাজ করতেন তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। আমি আমার স্ত্রীর সঠিক বিচার চাই যাতে করে কেউ বাড়ি বানাতে গেলে প্রথমে সেফটি নিশ্চিত করে।

নিহতের মেয়ে টুম্পা জানায়, ‘আমি বাসায় ছিলাম না। পরে খবর পেয়ে বাসায় এসে শুনি মা আর নেই। এভাবে তারা বিল্ডিং বানায়, মানুষের জীবনের কথা চিন্তা করে না। আমার মাকে কে ফিরিয়ে দেবে। আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই।’

প্রতিবেশী জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, ‘আমি এসে দেখি রক্তাক্ত অবস্থা। আমার মনে হয় ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তিনি। এভাবে কেউ নিরাপত্তা ছাড়া বিল্ডিং বানায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের এক বাড়ির মালিক জানান, তিনি যে ভবন তৈরি করছেন এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। রাজউক কয়েকবার কাজ বন্ধ করলেও তার কোনো তোয়াক্কা না করে তিনি কাজ করছেন। তারা মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করছেন। এখন দেখেন একজন মানুষের জীবন চলে গেল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম খায়রুল বাশার জানান, আমরা তদন্ত করছি, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় কারও গাফিলতি আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]