দুয়ারে কড়া নাড়ছে দুর্গাপূজা, চিরচেনা মুখরতা নেই শাঁখারীবাজারে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০

আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। দেবীদুর্গাকে বরণ করে নিতে চলছে নানা আয়োজন। প্রতিবার পূজার আগে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার কেনাকাটা ও মণ্ডপ সাজানোর আয়োজনে মুখর থাকলেও এবার করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে সেই পরিস্থিতি নেই। যদিও শেষ মুহূর্তে কিছু ক্রেতা আসছেন শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে।

প্রতিমা কেনার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা শাঁখারীবাজার। প্রসিদ্ধ এ বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিমার পূজা, ভোগ, ফুল সাজানো থেকে শুরু করে প্রতিমার শাড়ি–গয়না, অস্ত্রশস্ত্র সব বেচাকেনা হয়। মেলে শাঁখা–পলা, শঙ্খ, মুকুট, টোপর, হার, চূড়া, কানের দুল, নূপুর কাঁসা বা পিতলের থালা, বাটি, গ্লাসও।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোর সামনে শেষ মুহূর্তে দেবীদুর্গাকে শৈল্পিক ছোঁয়ায় সাজিয়ে তুলছেন কারিগররা। তবে অন্য সময়ের তুলনায় দোকানে ক্রেতা সমাগম কম। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, করোনার কারণের সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শাঁখারীবাজারের প্রতিমা কারিগর-ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, ভাটা পড়েছে পূজা উদযাপনের আয়োজনেও।

শাঁখারীবাজারের দত্ত ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী নীল কান্ত দত্ত জাগো নিউজকে বলেন, ‘মহামারির কারণে এবার সীমিত আকারে পূজা উদযাপন করবেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। যে কারণে এবার দোকানে বেচাকেনা কিছুটা কম। প্রতি বছর দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে প্রতিমার জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসত, এবার তা নেই। ফলে আমাদের কারিগররা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ঢাকা এবং আশপাশের কিছু মানুষ এসে খানিকটা কেনাকাটা করছেন। এবার আমাদের পাইকারি বিক্রিও কম। শেষ সময়ে কিছু বেচাবিক্রি হলেও আমাদের স্টকে অনেক মালামাল থেকে যাবে।’

ShakhariBazar

মা মনসা শিল্পালয়ের সদানন্দ নাগ বলেন, ‘করোনার কারণে এবার আমরা কাস্টমার কম পাচ্ছি। পূজার বিভিন্ন সামগ্রী শাঁখা, সিঁদুর, লেস, প্রতিমার রঙ, প্রতিমার সাটিন কাপড় বেচাকেনার ধুম নেই। প্রতিমা সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রীও তেমন একটা বিক্রি হচ্ছে না।’

শিমুলিয়া শিল্পালয়ের প্রতিমাশিল্পী পল্টন পাল বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবার আমাদের প্রতিমা তৈরির অর্ডার কম আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে পরিমাণ অর্ডার আসত এবার আর তা আসেনি। অন্যান্য বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০-১৫টা প্রতিমার কাজ পেতাম। এবার আমরা শুধু চারটি অর্ডার পেয়েছি। অন্যবার আমাদের কারিগররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিমা তৈরির কাজ করলেও এবার কারিগরদের জন্য তেমন কোনো অফার আসেনি।’

কোতোয়ালি থানা ও শাঁখারীবাজার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন, ‘চলমান মহামারির কারণে এবারের দুর্গাপূজা উদযাপনের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে আমাদের পূজার আয়োজন করতে হবে। এবার আমরা জাঁকজমক করে কোনো উৎসব করবো না। শুধু ধর্মীয় পূজাটা পালন করব।’

তিনি বলেন, এবার কোতোয়ালি থানা এলাকায় পূজামণ্ডপ বসবে ২২টি। গত বছরগুলোতে এ এলাকায় ৩০টির বেশি মণ্ডপ বসেছিল। করোনার কারণে এবার মণ্ডপের সংখ্যা কমাতে হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পর দেবীপক্ষের সূচনা হলেও এ বছর আশ্বিন মাস ‘মলমাস’ হওয়ায় বরাবরের মতো দেবীপক্ষে দুর্গাপূজা শুরু হয়নি। এর এক মাস পাঁচ দিন পর কার্তিকে অর্থাৎ আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।

রায়হান আহমেদ/এইচএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]