ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে যে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনায় জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ‘ঢাকা শহরের জনঘনত্ব, বাসযোগ্যতা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিআইপির প্রতিবেদন প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে (ভার্চুয়াল) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, যেকোনো শহরের বাসযোগ্যতার অন্যতম পরিমাপক শহরের জনঘনত্ব। সেই হিসেবে বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা শহরের অতি নিম্ন অবস্থানের প্রধান কারণ অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও অধিক জনঘনত্ব। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় জনসংখ্যা, জনঘনত্ব ও শহরের বিদ্যমান অবকাঠামো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাদির সাপেক্ষে শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনা না করা হলে যেকোনো শহর তার বাসযোগ্যতা হারাবে এবং ঢাকা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান জনঘনত্ব, বাসযোগ্যতা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উপস্থাপিত প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জনঘনত্বের একটি তুলনা চিত্র তুলে ধরেন। একটি বড় শহরের জনঘনত্বের জন্য মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে ৭০-৮০ জন যা সর্বোচ্চ ১২০ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহর এলাকায় হতে পারে।

dhaka1

তিনি বলেন, জাপানের টোকিও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার ওয়ার্ডসমূহের জনঘনত্ব একরপ্রতি ৯০ এর নিচে, অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি শহরের সর্বোচ্চ জনঘনত্ব প্রতি একরে ৫৮ জন এবং সিঙ্গাপুরকে উঁচু ভবনের শহর বলা হয়, কিন্তু সেখানেও শতকরা ৮০ ভাগ জমি সরকারের মালিকানাধীন এবং শতকরা ৯০ ভাগ আবাসন সরকার প্রদান করে থাকে এবং একটা পরিকল্পনা এলাকা (প্ল্যানিং ডিস্ট্রিক্ট) ব্যতীত বাকি সকল পরিকল্পিত শহরের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৮০ জনের নিচে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ ইউরোপের শহরসমূহের মধ্যে জনঘনত্বের তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে ড. আদিল বলেন, ‘ভারত এবং ইউরোপের অনেক বড় বড় শহরের তুলনায় ঢাকার লালবাগ, চকবাজারের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৬০০-৭০০, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ অথচ সেখানে অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাদি পরিকল্পনার সকল মানদণ্ড ও সূচকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত। সিঙ্গাপুর উচ্চবৃদ্ধির শহর কিন্তু তার জনঘনত্ব অনেক কম; এমনকি নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের জনঘনত্ব যেখানে ১১২ এবং অন্যান্য এলাকার ঘনত্ব প্রতি একরে ৬০ এর নিচে; সেখানে বাংলাদেশ তুলনামূলক নিম্নভবনের শহর হিসেবে পরিচিত হয়েও ব্যক্তিগত মালিকানায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লটে ভবন তৈরি করার কারণে জনঘনত্ব অধিক বেশি।’

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) জনঘনত্বের মানদণ্ড বিশ্লেষণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার গ্রোস আবাসিক ডেনসিটি ও নেট আবাসিক ডেনসিটি অনেক বেশি। এছাড়াও ঢাকার জনঘনত্ব ধারণক্ষমতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় পুরাতন ওয়ার্ডসমূহের মধ্যে প্রতি একরে ১৫০ জনকে ধরা হলেও ৯০ ভাগ এলাকা সেই ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে; প্রতি একরে ৩০০ জন হিসেবে ৬৩ ভাগ ওয়ার্ড ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে; প্রতি একরে ৪০০ জন হিসেবে ৪০ ভাগ ওয়ার্ড ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে; যেখানে মেগাসিটির ক্ষেত্রে জনঘনত্বের মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে সর্বোচ্চ ১২০জন, যা খসড়া ঢাকা কাঠামোগত পরিকল্পনা (২০১৬-৩৫) এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এএস/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]