নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০ উপলক্ষে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক আর কত দূর’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান।

তারা বলেন, প্রতিনিয়ত নগরজীবনে মানষকে কোনো না কোনো কাজে রাস্তায় বের হতে হয়। ঘর থেকে বের হলেই প্রত্যেককে এখন সড়ক দুর্ঘটনা নামক আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হয়। ইদানীং এ ঝুঁকি আরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান। অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ৬৪ জন মানুষ রাস্তায় মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হচ্ছেন অনেক পরিবার। আর দেশ হারায় তার মেধাবী নাগরিককে। সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা নয়, রাষ্ট্রও আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ, চালক ও যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, মহানগর ও সিটি বাস সার্ভিসের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন, পথচারী ও অযান্ত্রিক যানে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো বন্ধ, নতুন সড়ক নির্মাণে নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া, সার্ভিস লেন নির্মাণ, গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড লার্নার সরবরাহ, রেল ও নৌপথকে কেন্দ্র করে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান বলেন, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের পর জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করা, বাস স্টপেজ নির্ধারণ করা, বাসের ভেতরে দৃশ্যমান জায়গায় বাসের চালক ও হেলপারের তথ্য প্রদর্শন করা, ঢাকায় কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা করাসহ ১৭ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। আমরা যেভাবে নিরাপদ সড়কের কথা বলছি, একইভাবে যদি নিরাপদ যাতায়াতের কথা বলি তাহলে সুফল বেশি আসবে। নিরাপদ সড়কের সাথে যাতায়াত কথাটি যুক্ত করা প্রয়োজন। তাহলে অন্যান্য বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

সভায় আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত সমাধান খোঁজা বড় ভুল। এজন্য গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। বিআরটিএতে এই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে কাজ করছেন মাত্র তিনজন। তিনজন লোক দিয়ে সারাদেশে নিরাপদ সড়ক তৈরি করা সম্ভব নয়। বরং অন্যান্য যেসব বিভাগ আছে তাদেরকে একত্রিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরিবহন শ্রমিকদের যোগ্যতা নির্ধারণে প্রচলিত কারিকুলাম দিয়ে বিবেচনা না করে ভিন্ন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, স্বাধীনতা পর আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু দেশে যে হারে যানবাহনের সংখ্যা এবং নাগরিকদের চলাচল বেড়েছে সে অনুপাতে সড়ক পথের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত রয়ে গেছে। ২০৪১ সালে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাব, জনসংখ্যা এবং যাতয়াত বেড়ে যাবে। এজন্য এখনই যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার উপযুক্ত সময়। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রভাব আমরা সড়কে দেখছি না।

তিনি আরও বলেন, চালকদের মাঝে নিজের ও অন্যের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। আগামীতে আমাদের যে একশ ইকোনোমিক জোন হবে সে জায়গাগুলোতে কোন পথে কী পরিমাণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করবে তার একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের রেল কেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ভার্চুয়াল আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন গ্রিন ফোর্স এর সমন্বয়ক ও পবা’র সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

এএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]