তথ্য সংগ্রহে মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তিতে সাড়া নেই প্রবাসীদের

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ২৮টি দেশ থেকে গত সাত মাসে দেশে ফেরত আসা সোয়া দুই লাখেরও বেশি শ্রমিকের সমস্যা সম্পর্কে জানতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তবে এতে আশাব্যঞ্জক সাড়া মেলেনি।

গত ৭ অক্টোবর থেকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ শুরু হলেও ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র সাত হাজার ৮২ জন প্রবাস ফেরত শ্রমিক তথ্য-উপাত্ত জানিয়ে নাম লিপিবদ্ধ (রেজিস্ট্রেশন) করেছেন।

মালয়েশিয়া ফেরত প্রায় তিন হাজার প্রবাসী কর্মী (এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ) নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, বাহরাহন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, কাতার ও সিঙ্গাপুরের প্রবাস ফেরত কর্মীই বেশি।

করোনাকালে ফিরে আসা এ সকল প্রবাসী কর্মীদের ভবিষ্যত নিয়ে সর্বমহলে উদ্বিগ্নতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ভিসা ও আকামাজনিত জটিলতা, করোনামুক্ত সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও এর পাশাপাশি এয়ারলাইন্সের টিকিট সংকটের কারণে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে প্রবাসী কর্মীদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পরে বিদেশ ফেরত কর্মীদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কতসংখ্যক শ্রমিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে বিদেশে যেতে পারছেন না, এ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য জানতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেছেন, যে সকল প্রবাসী কর্মী ফেরত যেতে পারছেন না, গণবিজ্ঞপ্তিতে তাদের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে। তাদের প্রকৃত পরিসংখ্যান জানা থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সহজ হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) একজন শীর্ষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, গত ১ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সোয়া দুই লাখেরও বেশি প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরেছেন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে যেভাবে মিডিয়ায় প্রবাসী কর্মীরা যেতে পারছেন না বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল প্রকৃতপক্ষে অবস্থা তেমন নয়। তা নাহলে রেজিস্ট্রেশন মাত্র সাত হাজার হতো না। প্রবাসী কর্মীদের অনেকেই ফিরে যেতে শুরু করেছেন।

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, গণবিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা সাত হাজার ৮২ জনের মধ্যে মালয়েশিয়া ফেরত দুই হাজার ৯৩৬ জন, সৌদি আরবের এক হাজার ১৩০ জন, বাহরাইনের ২০৮ জন, ইতালির ৪৯৪ জন, জর্দানের ৫৬ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার ৬৬ জন, কুয়েতের ৯৭২ জন, কাতারের ৭১৮ জন, সিঙ্গাপুরের ১৪০ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১৫৯ জন রয়েছেন।

জেলাওয়ারি রেজিস্ট্রেশনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কুমিল্লার ৬৭৬ জন, ঢাকার ৪০৭ জন, ফেনীর ২৮৭ জন, ঝিনাইদহের ১০৯ জন, কিশোরগঞ্জের ১৩০ জন, লক্ষ্মীপুরের ১৬৫ জন, মৌলভীবাজারের ১৪৪ জন, মুন্সিগঞ্জের ২৫৬ জন, ময়মনসিংহের ১১৪ জন, নরসিংদীর ২২৫ জন, নোয়াখালীর ৩৫৬ জন, নারায়ণগঞ্জের এক হাজার ৪৬৪ জন, মাদারীপুরের ১২৩ জন, চাঁদপুরের ২৮৬ জন, চট্টগ্রামের ৪১২ জন, সিলেটের ১৯৩ জন, সাতক্ষীরার ১৫৭ জন, শরীয়তপুরের ১৪৯ জন, টাঙ্গাইলের ১৯৯ জন এবং পাবনার ১১৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

এমইউ/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]