নদী উদ্ধারে নেতৃত্ব দেয়া বিআইডব্লিউটিএর সেই কর্মকর্তাকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২০

ঢাকার চারপাশে নদী তীরের জায়গা উদ্ধার অভিযান এর আগেও বহুবার পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু গত বছর থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), এটা নজিরবিহীন। যে কারণে বিআইডব্লিউটিএর এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসাও পেয়েছে। বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি, হুমকি সত্ত্বেও পিছপা হয়নি সরকারের এই সংস্থাটি।

বিআইডব্লিউটিএর এমন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন। প্রভাবশীলীদের দখলে থাকা নদীর জায়গা উদ্ধার করেছেন তাদের স্থাপনা ভেঙে দিয়ে। কোনো বাধাই তার এ উচ্ছেদ অভিযান দমাতে পারেনি।

বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্ব সচেতন এই পরিচালককে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা নদীবন্দর-সদরঘাট থেকে বদলি করে মতিঝিল প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Arif-2

বিআইডব্লিউটিএর সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই বদলির বিষয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ কে এম আরিফ উদ্দিনের সঙ্গে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বদলির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে সদরঘাট থেকে হেড অফিসে তাকে বদলি করা হয়েছে।

তবে বিআইডব্লিউটিএর কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, বিআইডব্লিউটিএর সাম্প্রতিকালের উল্লেখযোগ্য অভিযানে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, আইনজীবী, বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্থাপনাও ছিল। এসব পুরো অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এ কে এম আরিফ উদ্দিন। যার ফলে প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েন তিনি।

Arif-2

সূত্র আরও বলছে, এরমধ্যে একজন প্রভাবশালী নদীর জায়গায় পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ইকোনমিক জোন গড়ে তোলেন। সেখানেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে বদলির বিষয়ে চাপ ছিল। ওই ঘটনার পর তাকে সরিয়ে দিতে শ্রমিকদেরও আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাঠে নামানো হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে বছরব্যাপী অভিযানে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে উদ্ধার করা জায়গায় স্থায়ী সীমানা খুঁটি স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর উভয় তীর মিলিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এএস/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]