জাদুঘরে ঢুকতে ভোগান্তি: ২০ টাকার অনলাইন টিকিট ৩০ টাকা!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:২৩ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২০

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার চলতি মাসের শুরুর দিন থেকে খুলে দেয়া হয় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর। তবে অনলাইনে টিকিট কাটার বাধ্যবাধকতা থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ডাটা না থাকায় অনলাইনে টিকিট কাটতে পারছেন না অনেক দর্শনার্থীই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে জাদুঘর দেখতে এসে তারা ফিরছেন হতাশ হয়ে।

আর এ সুযোগে অনলাইনে টিকিট কেটে দেয়ার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে একটি চক্র। জাদুঘরে টিকিটের মূল্য ২০ টাকা হলেও জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি নিয়ে নিজেদের মুঠোফোন থেকে অনলাইনে টিকিট কিনে দিচ্ছে চক্রটির সদস্যরা। অনেকে দর্শনার্থীই নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় জাদুঘরের প্রবেশদ্বারের বাইরে উপচে পড়া মানুষের ভিড়। লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে মিলছে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ। শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার পর ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

museum

রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে জাদুঘর দেখতে এসেছেন আনিসুর রহমান। অনলাইনে টিকিট কাটার বিষয়টি আগে থেকে জানা ছিল না তার। আসার পর জানতে পেরে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ভ্যাটসহ মোট ২২ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছেন তিনি।

তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রাবাড়ি এলাকার তিন তরুণ জানান, তাদের কাছে স্মার্টফোন নেই। প্রবেশদ্বারের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি জনপ্রতি ৩০ টাকার বিনিময়ে টিকিট কিনে দিতে পারবেন বলে জানান। পরে অবশ্য মোটের ওপর আরও ১০ টাকা বেশি অর্থাৎ ১০০ টাকা দিতে হয় ওই ব্যক্তিকে।

ওয়ারির বাসিন্দা পোশাক শ্রমিক হাসান সপরিবারে (স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে) জাদুঘর ঘুরে দেখার আশা নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু অনলাইনে টিকেট কাটতে অতিরিক্ত টাকা গুণতে হবে শুনে তিনি বাড়ির পথ ধরেন। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আমরা কোথায় স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট পাব? আমাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল।’

এমইউ/এসএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]