নিয়োগের দাবিতে এখনও রাজপথে প্যানেলপ্রত্যাশীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০২০

টানা ২৭ দিন অনশন করেও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যানেলভুক্ত নিয়োগপ্রত্যাশীদের। প্রতিদিনের মতো সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কাফনের কাপড় পরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নিয়োগপ্রত্যাশীরা জানান, প্রাথমিকে প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত ২৬ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে কাফনের কাপড় পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন অব্যাহত রেখেছেন। টানা ৩৬ দিন ধরে তারা বিভিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনে যুক্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক প্রার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।

আন্দোলনে যোগ দেয়া বরিশাল জেলা থেকে আসা নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমার সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। এখন আর কোথাও আবেদন করার সুযোগ নেই। জীবনের গতিপথ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় ঘর ছেড়ে রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে পড়ে থাকব।’

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে সেশনজটে পড়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেখানে আবেদন করি। ২৪ লাখ প্রার্থীর মধ্যে আড়াই শতাংশ লিখিত পরীক্ষায় পাস করে। তার মধ্যে আমি একজন। সকল শূন্য পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হলেও মাত্র ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

নুসরাত জাহান বলেন, একটি নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে দুই থেকে তিন বছর সময় ব্যয় করা হয়। অথচ ২৪ লাখ প্রার্থীর মধ্যে ৫৫ হাজার প্রার্থী মেধার পরিচয় দিলেও তাদের প্যানেলভুক্ত নিয়োগ না দিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি অমানবিক আচরণ ছাড়া আর কিছু নয়। নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে বাড়ি ফিরবেন না বলে জানান তিনি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ- ২০১৮ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা প্যানেলভুক্ত নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এ পরীক্ষায় ২৪ লাখ প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৫৫ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন। ১৮ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাদের জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলেও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। আগে এ পদ্ধতি অনুসরণ হলেও এখন তা মানা হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি বাস্তবায়নে তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন।

তবে প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কোনো চিন্তা নেই বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে। এজন্য নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে আট লক্ষাধিক অনলাইন আবেদন এসেছে। আগামী ২৪ নভেম্বর আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

এমএইচএম/এমএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]