গোল্ডেন মনিরের ২১ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ২২ নভেম্বর ২০২০

অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারসহ গ্রেফতার মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে একটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে। বাকি দুটি হয়েছে অস্ত্র ও মাদক আইনে। এই তিন মামলায় ২১ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।

রোববার (২২ নভেম্বর) সকালে যোগাযোগ করা হলে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, র‌্যাব-৩ বাদী হয়ে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা করেছে। আজ দুপুরে মনিরকে সিএমএম আদালতে নেয়া হবে। প্রতিটি মামলায় তার সাত দিন করে মোট ২১ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত ১০টা থেকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় গোল্ডেন মনিরের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। রাতভর অভিযানে ৬০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি বিদেশি পিস্তল ও নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এছাড়া বিলাসবহুল পাঁচটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদরদফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন গোল্ডেন মনির। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে তার স্বর্ণ চোরাকারবারের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এসবই তিনি করেছেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। যেখানে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ ও নয় লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারি ও ভূমির দালাল। তার একটি অটোকার সিলেকশন শোরুম আছে। পাশাপাশি রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি স্বর্ণের দোকানের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমরা তার বাসা থেকে অনুমোদনবিহীন দুটি বিলাসবহুল বিদেশি গাড়ি জব্দ করেছি, যার প্রত্যেকটির দাম প্রায় তিন কোটি টাকা। এর পাশাপাশি কার শোরুম থেকেও তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদনবিহীন গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আশিক বিল্লাহ বলেন, মূলত ফৌজদারি অপরাধের কারণে অর্থাৎ অনুমোদনবিহীন বিদেশি অস্ত্র ও মাদক রাখার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার এই আইনবহির্ভূত আয়-উপার্জন অর্থসম্পদ গড়াসহ কারা কারা জড়িত সেটি তদন্ত করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবে র‌্যাব।

জানা যায়, ৯০ দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির হোসেন। তারপর শুরু করেন ক্রোকারিজের ব্যবসা। একপর‌্যায়ে স্বর্ণ চোরাচালানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর বিদেশ থেকে অবৈধভাবে দেশে বিপুল স্বর্ণ আনতেন তিনি।

অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মেরুল বাড্ডায় বিলাস বহুল ছয়তলা বাড়ি গড়ে তোলেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুইশর বেশি প্লট এবং ৩০টির মতো ফ্লাটের কথা স্বীকার করেছেন মনির।

জেইউ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]