গোল্ডেন মনিরের ২০০ প্লটের বিষয়ে যা বলল রাজউক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০২০

অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারসহ গ্রেফতার মো. মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের অনিয়মের মাধ্যমে ২০০ প্লটের মালিক হওয়ার অভিযোগটি প্রমাণিত হলে সেটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম।

প্লটগুলো বাতিল করবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনোপ্রকার অনিয়ম থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই বাতিল করব।’

রোববার (২২ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

গোল্ডেন মনিরের বাসা থেকে ২০০ প্লটের নথি জব্দ এবং বাড্ডার বাসা থেকে কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এগুলো আমরা তদন্ত করব। তদন্তে যারা শনাক্ত হবে তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আদালতে যে মামলা আছে তা চলবে।’

২০০ প্লটের মালিক হওয়ার পেছনে রাজউকের কারও সহযোগিতা বা ইন্ধন ছিল কি না- জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, এটা একদিনের প্রক্রিয়া নয়, এটা দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। আমরা এতদিনে উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গত বছর প্রথম উদঘাটন হয় এবং তখন থেকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এ ব্যবস্থা চলমান এবং যতক্ষণ না সর্বশেষ বিষয়টি উদঘাটিত হচ্ছে।’

রাজউক ভবনে তার একটি অফিসে অনেক কাগজপত্র পাওয়া গেছে, এর সঙ্গে রাজউকের অনেকেই জড়িত- এ নিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছর রাজউকের চেয়ারম্যান ছিলেন সুলতান আহমেদ। সে সময় আমি সদস্য (প্রশাসন) ছিলাম। আমাদের সবার অংশগ্রহণে একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল রাজউকেরই একটি কক্ষে। এই কক্ষটি বাইরে ভাড়া দেয়া ছিল। এই কক্ষ থেকে আমরা ৭২টি নথি উদ্ধার করেছি। সেই নথি উদ্ধারের প্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় মামলা করেছি। সেই সময়ই একজন কর্মচারী আটক হন তাকে আমরা থানায় সোপর্দ করি। তিনি আসামি। এ বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।’

‘সেই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছি এবং মামলা চলমান। তদন্তও চলছে। এর সঙ্গে আর যারা জড়িত, পুলিশ চার্জশিট দিলে এবং শনাক্ত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করব’, যোগ করেন রাজউক চেয়ারম্যান।

গোল্ডেন মনিরকে রাজউকের পক্ষ থেকে ভিআইপি প্রটোকল দেয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারিভাবে যেভাবে নথি স্বাক্ষর হয় আমি সেই নিয়ম অনুসরণ করি। এখানে কাউকে কোনোপ্রকার ভিআইপি প্রটোকল দেয়া হয়নি বা এ ধরনের প্রটোকল দেয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না। এখানে নিয়ম ভঙ্গের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

রাজউকের সদস্য এবং চেয়ারম্যান হিসেবে আপনাদের দায় আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাঈদ নূর আলম বলেন, ‘আমরা তার অনিয়মগুলো উদঘাটন শুরু করেছি। উদঘাটন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেগুলো উদঘাটন হবে সেগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আদালতে বিচার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা চলছে।’

আগে কেন ব্যবস্থা নেননি- জবাবে তিনি বলেন, ‘গত বছরের অভিযান রাজউকের নিজস্ব ছিল। আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী চলব।’

একজন ২০০ প্লটের মালিক, এটা কি অনিয়ম নয়- জবাবে রাজউক প্রধান বলেন, ‘এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত হবে। ভবিষ্যতে কোনোপ্রকার অনিয়ম থাকবে না।’

শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে কি না- তিনি বলেন, ‘শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে। নতুন করে আরও শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করব। সেই পরিকল্পনা আমাদের আছে।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত থেকে শনিবার (২১ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত অব্যাহত অভিযানে রাজধানীর বাড্ডা থেকে গোল্ডেন মনিরকে অস্ত্র ও মাদক এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাসহ গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় শুধু সিল নকল করে রাজধানীতেই ২০০টির বেশি প্লট কব্জা করেছেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে এ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে র‍্যাব।

আইএইচআর/এফআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]