তাজরীনে আহত শ্রমিকদের ‘জবাব চাই’ মিছিলে পুলিশের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০২০

তাজরীন গার্মেন্টসের আগুনে আহত শ্রমিকরা শ্রম মন্ত্রণালয়ের অভিমুখে মিছিল করতে চাইলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন। রোববার (২২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে প্রেস ক্লাব থেকে মিছিলটি সচিবালয়ের সামনে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। শ্রমিকরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলেও তা পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৪ নভেম্বর তারা গণভবন অভিমুখে কাফনের কাপড় পরে জিন্দা লাশ মিছিল করবে। তারা আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত। সেদিন হয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নেবেন, না হয় শ্রমিকরা দেশ অচল করে দেবে।

press-1

ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি (গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত) ৬৬ দিনে গড়িয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী, বিজিএমই এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয় আন্দোলনকারীরা। এরপর এতদিনেও সরকার দাবি না মানায় আজ শ্রম মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘জবাব চাই’ মিছিল করেন শ্রমিকরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিছিলটি পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন এবং মন্ত্রণালয়ে জরিনা বেগমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠান তারা।

সমাবেশে আহত শ্রমিকদের নেত্রী জরিনা বেগম বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা বা দয়া চাইতে আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার নিতে এসেছি। আজ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জামাই আদরে রাখা হচ্ছে আর যে শ্রমিক অর্থনীতির চাকা ঘোরায় তাদের পিষে ফেলা হচ্ছে। আমরা ঘাম ঝরিয়ে দেশের উন্নয়ন ঘটাচ্ছি, অথচ আমাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ সরকার দিচ্ছে না।’

press-1

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জরিনা বলেন, ‘আমাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করুন প্রধানমন্ত্রী। আপনি গণভবনে থাকেন। আপনার করোনার ভয় নেই, রোদ-বৃষ্টিতে কোনো কষ্ট নেই। আমরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রেসক্লাবের সামনে বসে আছি, অথচ কেউ কোনো খোঁজই নিচ্ছে না। আপনার বাবার হত্যাকারীদের বিদেশ থেকে নিয়ে এসে আপনি বিচার করতে পারেন অথচ তাজরীনের মালিক দেলোয়ার আগুন লাগিয়ে ১২৫ শ্রমিক হত্যা করেও গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেলোয়ারের কোনো বিচার কেন করা হচ্ছে না জবাব চাই।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শামীম ইমাম, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির, শ্রমিকনেত্রী আমেনা বেগম প্রমুখ।

পিডি/জেএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]