সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই পাস হতে যাচ্ছে ইসির ১৮০৯ কোটির প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই পাস হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় প্রকল্প। এটি হলো- ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (দ্বিতীয় পর্যায়)’। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮০৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

যদিও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সময় সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ না করতে বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়া বিধি অনুযায়ী, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এসব সত্ত্বেও সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ থেমে নেই।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য টেবিলে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি অর্থায়নে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগে প্রকল্পটি তারাই বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইটের বিদ্যমান সার্ভারকে অধিকতর দক্ষতাসম্পন্ন নতুন সার্ভারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনের জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করে ইসিকে সহায়তা করা। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্তকারী ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ ও বিস্তৃত করা। ইসির কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে ছবিসহ ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচিতি সেবা বাস্তবায়নের উপযোগী আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। জনবান্ধব জাতীয় পরিচিতি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

সূত্র বলছে, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের এই রুটিন কার্যক্রম প্রকল্পের মাধ্যমে না করে রাজস্ব খাত থেকে বাস্তবায়ন করতে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছে ইসি।

প্রকল্পের যৌক্তিকতায় ইসি বলেছে, ২০০৭/২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য প্রায় ৮ দশমিক ৫ কোটি ভোটারের ডেমোগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে একটি তথ্যভাণ্ডার গড়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং নিবন্ধিত সব ভোটারকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া নিবন্ধিত ভোটারদের ডেমোগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বয়ে নাগরিক নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সালে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন- ২০১০ প্রণয়নের মাধ্যমে ইসিকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব প্রদান করা হলেও অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন ২০১১ সালে ৭১ জনবল বিশিষ্ট জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ চালু করে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ ও মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে আইটি অবকাঠামো প্রস্তুত, পরিচিতি যাচাই সেবা প্রচলন ও নাগরিকদের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে সরকারের অনুদান ও বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ)’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাবে।

আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ, ভোটার তালিকা, ৯ কোটি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ, নাগরিকদের পরিচিতি সেবা, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া দুটি সরকারি ও দুটি বেসরকারিসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠানকে পরিচিতি যাচাই সেবা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সে উপযোগী তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতে এ সেবার চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। এনআইডি উইংয়ের জনবল কাঠামোতে মাত্র ৭১ জনের সংস্থান রয়েছে, এ জনবল নিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি সেবা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বিধায় চলমান আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক হাজার ৪৫৩ জনবলের সাহায্যে দেশব্যাপী সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে চলমান আইডিইএ প্রকল্পের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ ভবিষ্যতে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে সুচারুরূপে সেবা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের ২০১৭ সালের নভেম্বরের এক সভায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রিপারেশন অব ইলেক্টোরাল রোল উইথ ফটোগ্রাফ অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেটিং দ্য ইন্স্যুরেন্স অব ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড এবং আইডিইএ প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে সমজাতীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হবে বিধায় আলাদা সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি।

পিডি/এফআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]