ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণে টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে আগুন, দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২১ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০
ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে

বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণে রাজধানীর বনানী আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, আধঘণ্টার আগুনে কলোনীর ২৬৫, ২৬৬, ২৬৭ও ৬৩৮ নম্বর কাঁচাবাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববার (২২ নভেম্বর) বিকেল তিনটায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট কাজ করে। পরে বিকেল ৪টা ৫মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

jagonews24

অল্প সময়ের মধ্যে সব পুড়ে যায়

সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে জিনিসপত্র বের করছেন এলাকার বাসিন্দারা। এর মধ্যে কেউ কেউ আবার রাত কাটানোর জন্য অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২৬৫ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা হাফিজা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, বিকেলে ২৬৭ নম্বর বাড়ির সামনে থাকা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে পাশাপাশি তিনটি বাড়িতে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু পুড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক বছর ধরেই থাকি। এইখানে কিছুদিন পর পরই ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। এইখানে অনেকগুলো খাম্বা, এগুলো ট্রান্সফর্মার মিটারের খাম্বা। এই রাস্তার দুটি ট্রান্সফর্মারে চোরায় লাইন বেশি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে ঠিক করতে আসতে বলি। তারা ঠিক করতে না এসে চোরা লাইনের এদেরকে বলে দেন। তখন চোরা লাইন যারা যারা ঘরে ঘরে দেয় তারা রাতে ঠিক করে দেয়। এলাকার কিছু প্রভাবশালী এই কাজ করে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, পাশাপাশি লাগোয়া চারটি বাড়িতে প্রায় ২৫টির মতো ঘর। ঘরগুলোতে প্রায় ৩০ পরিবারের বাস। শীতের রাতে সবকিছু হারিয়ে পরিবারগুলো আহাজারি করছে। কয়েকজন আবার সবার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে রাতের সবার খাবারের ব্যবস্থা করছেন।

হাফিজা আক্তার বলেন, ‘‌আমরা কোনো কিছুই সঙ্গে আনতে পারিনি। আগুন যখন লাগে তখন আমাদের বাসায় কোনো পুরুষ ছিল না। আমরা ভয় পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাই।’

আগুন নেভাতে আনসারদের অবহেলা আছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা চাইলে আগুনটা নেভাতে পারতো। ট্রান্সফর্মার থেকে যখন আগুনের সূত্রপাত হয়, তখন তাদের সাহায্য চাওয়া হলেও তারা কোনো কিছু করেনি। এলাকার মানুষ বালু ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে।

২৬৭ নম্বর বাড়ির মালিক আবু সিদ্দিকের ছোট মেয়ে শারমীন আক্তার জাগো নিউজকে জানান, ‘কীভাবে আগুন লাগছে আমরা জানি না। আমাদের সবকিছু পুড়ে গেছে। একটা সূতাও বের করতে পারি নাই।’

৬৩৮ নম্বর বাড়ির মালিক বিটিসিএলের সাবেক কর্মচারী নুরন্নবী বলেন, ‘আমি বাইরে ছিলাম। বিকেল ৪টায় ছেলের বউয়ের ফোন পেয়ে বাসায় এসে দেখি সব শেষ। গয়না টাকা কিছু বের করে আনতে পারি নাই। যে যার প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেছে।’

নুরন্নবীর টিনশেড বাড়ির ১১টি কক্ষে ৭টি পরিবার থাকতো। এর মধ্যে চার কক্ষে ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতেন তিনি। বাড়ির বায়েজিদ হাওয়লাদার নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনেছি ট্রান্সফর্মার থেকে আগুন লাগছে। আমি সার্টিফিকেট, কোরআন শরিফ নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেছি। আর কিচ্ছু বের করতে পারি নাই।’

এসএম/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]