বাদের সুপারিশ সত্ত্বেও চার সংযোজনা নিয়েই হচ্ছে ‘সাংস্কৃতিক পল্লী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৪ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২০

জামালপুরে বাস্তবায়নাধীন ‘শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণ (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বেড়েছে। উদ্যোগী মন্ত্রণালয় যখন প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল, তখন মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা সংশোধনীতে নতুন প্রস্তাবিত ওয়াটার ফাউন্টেইন, ৩-ডি সিনেপ্লেক্স, ৯-ডি থিয়েটার ও নাগরদোলা- এই চারটি সংযোজনা বাদ দিতে বলেছিল। কিন্তু উদ্যোগী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সেগুলো বাদ দেয়নি। গত ১৭ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই চার উপাদানসহ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও জামালপুর পৌরসভা। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১২৬ কোটি ৫৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সংশোধনীতে আরও ১০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা যোগ করে ধরা হয়েছে ২২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। প্রাক্কলিত সময়ও বেড়েছে।

২০১৬ সালের মার্চে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রথমে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ একনেক সভায় তা আরও বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ এবং ব্যয় হয়েছে ৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

পিইসি সভায় কী বলা হয়েছিল- জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পিইসি সভার সুপারিশ ছিল নতুন প্রস্তাবিত ওয়াটার ফাউন্টেইন, ৩-ডি সিনেপ্লেক্স, ৯-ডি থিয়েটার ও নাগরদোলা- এই চারটি সংযোজনা বাদ দিয়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) করতে হবে।

সুপারিশ সত্ত্বেও সংযোজনাগুলো বাদ না দেয়ার ব্যাখ্যায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পরিত্যক্ত জলাধার ও অন্যান্য স্থাপনার পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে নগরে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিনোদন ও উন্মুক্ত স্থান তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। নির্মাণাধীন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিকে আরও আকর্ষণীয় করে ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির জন্য নাগরদোলা, মিউজিয়ামের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক পোট্রেট কাজ, ওয়াটার ফাউন্টেইন, ১৭৬ আসনবিশিষ্ট ৩-ডি সিনেপ্লেক্স এবং ৩২ আসনবিশিষ্ট ৯-ডি থিয়েটার সংযোজন করে প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়েছে।

তারা আরও বলছেন, বর্তমানে প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে এটি দূর-দূরান্তের অনেক দর্শক আকর্ষণ করবে এবং আয় বাড়াবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর আকর্ষণীয়ভাবে স্থাপন এবং এ অঞ্চলের প্রধান বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য নির্মিত বাণিজ্যিক কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ৩-ডি/৯-ডি থিয়েটার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান সংশোধনের সংযোজনাগুলো স্থাপত্য অধিদফতরের সর্বশেষ পরিকল্পনা ও সুপারিশ অনুযায়ী যোগ করা হয়েছে। এছাড়া বর্ণিত প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন স্থাপনার নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জেলা প্রশাসন সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা টেকসই করার লক্ষ্যে নতুন উপাদানগুলো অপরিবর্তিত রেখে এবং বিদ্যমান আইটেমের কাজের সম্প্রসারণের প্রস্তাব করে আরডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

গত ২২ জুন পিইসি সভায় চলমান মহামারি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু বিনোদনমূলক উপাদান বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত আলোচিত হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সংযোজন ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করতে পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্ণিত অঙ্গগুলো বাদ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্র বলছে, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন, এক বছর চার মাস মেয়াদ বৃদ্ধি, নতুনভাবে নাগরদোলা, মিউজিয়ামের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক পোট্রেট, ওয়াটার ফাউন্টেইন, ১৭৬ আসনবিশিষ্ট থ্রি-ডি সিনেপ্লেক্স এবং ৩২ আসনবিশিষ্ট নাইন-ডি থিয়েটার সংযোজন, ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্যানিটারি, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যয় বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে প্রকল্পে সংশোধন আনা হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ, ড্রেনেজ/সেতু, নাগরদোলা, থ্রি-ডি সিনেপ্লেক্স, নাইন-ডি থিয়েটার, ওয়াটার ফাউন্টেইন, অনাবাসিক ভবন, পরামর্শক সেবা, ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট, ইলেকট্রিক সাব-স্টেশন, মিউজিয়ামের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক পোট্রেট কাজ, প্রকৌশল ও অন্যান্য সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক, অফিস ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা এই প্রকল্পের প্রধান কাজ।

প্রকল্প সূত্র বলছে, জামালপুর একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে সরকারি পরিত্যক্ত জমির ওপর দুটি জলাধার ও পুরাতন ধর্মীয় উপাসনালয়সহ (মসজিদ-মন্দির) সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং আদালতের বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। গত সময়ে দেশের গ্রামীণ ও জনপদের উন্নয়নে সীমিত আকারে প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও জামালপুরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়নি।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জামালপুর শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বেড়ে গেছে জনসংখ্যার ঘনত্ব। কিন্তু শহরের অবকাঠামো সুবিধা বিশেষ করে পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র ইত্যাদির সম্প্রসারণ ঘটেনি। এ অবস্থায় জামালপুরের মধ্যবর্তী স্থানে বিদ্যমান পরিত্যক্ত জলাধার ও অন্যান্য স্থাপনার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, নগর জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সাংস্কৃতিক, বিনোদন ও উন্মুক্ত স্থান তৈরির লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়।

পিডি/এসএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]