১৮০ দিনেই নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২০

দীর্ঘদিন অনিষ্পত্তি অবস্থায় যেসব মামলা রয়েছে তার মধ্যে দিনাজপুরের ৫ বছরের শিশু পূজা ধর্ষণের মামলা অন্যতম। চার বছর ধরে এই মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে গত অক্টোবর মাসে বাগেরহাটের এক শিশু ধর্ষণের মামলা মাত্র ৭ কার্যদিবসে রায় দেয়ার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে দেশে। বোঝা যাচ্ছে, কিছু বাধা দূর হলে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলো ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) ডেইলি স্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ‘১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা কতটুকু মানছি আমরা: প্রসঙ্গ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা’ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনরা।

অনুষ্ঠানটি ‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের আয়োজনে এবং ক্রিয়েটিং স্পেসেস টু টেক অ্যাকশন অন ভায়োলেন্স এগেইন্সট উইমেন অ্যান্ড গার্লস’ প্রকল্পের আওতায় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও অক্সফামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘আমরাই পারি’ জাতীয় কমিটির সদস্য রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ও বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া, পুলিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আফরোজ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান, অক্সফামের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন মাহফুজা আক্তার মালা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. মিজানুর রহমান তার বক্তব্যে অপরাধীর বিচার করার পাশাপাশি, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর মানসিক-আর্থিক-সামাজিক পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সরকারকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আফরোজ বলেন, ‘তদন্ত হতে দেরি হওয়া, ভুল রিপোর্ট দেয়া, মেডিকেল রিপোর্টে অতিরিক্ত সময় লাগানো, ঘটনাস্থলের দূরত্ব, আসামি পালিয়ে যাওয়া একটা বড় সমস্যা। বলা যায়, এগুলো বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বাড়িয়ে দেয়। আবার, পুলিশ সদস্যদের চাকরির জায়গা বদলি হওয়া, নির্যাতনের শিকার মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান, ভয় পাওয়া এবং বাধা দেয়া প্রভৃতি ঘটনাসমূহ ১৮০ দিনের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তির পথে অন্তরায় হয়ে থাকে।’

পুলিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা জানান, ‘প্রতিটি থানায় নারী শিশু প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পেশাল ডেস্ক রয়েছে এবং প্রায় ৬ হাজার ৯১২টি ফেসবুক পেইজ থেকে নিয়মিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বহু থানাতেই দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে সময়মত স্বাক্ষী হাজির না করা কিংবা পরিবার কর্তৃক মেডিকেল টেস্ট করাতে অসম্মতি প্রদান এসব কাজ পুলিশের দ্রুত কাজকে বিঘ্ন করে।’ তিনি এসব মামলা গ্রহণ করা ও তদন্ত করার পদ্ধতিতে পুলিশের পৌরুষ মানসিকতার ও আচরণের কথাও উল্লেখ করেন।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জাজ গোলাম কিবরিয়া ‘নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্নের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন। এসব মামলায় স্বাক্ষীদের সময়মতো হাজির না হওয়ার পেছনে তিনি স্বাক্ষীর অর্থনৈতিক অবস্থাকে অন্যতম কারণ বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি স্বাক্ষীর যাতায়াতের খরচ বহন করে সেক্ষেত্রে অনেক স্বাক্ষীই সঠিক সময়ে হাজির থাকবে।’ তিনি আরও বলেন যে, ট্রাইবুনালের সংখ্যা অনুযায়ী অতিরিক্ত মামলার চাপ থাকায় ১৮০ দিনের সময়সীমা মেনে চলা বাস্তবিকভাবে সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই ট্রাইবুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সে অনুযায়ী বাজেট ব্যবস্থাপনার প্রতি তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন।

বাগেরহাটের দ্রুততম মামলার রায়কে উল্লেখ করে আলোচ্য সভার প্যানেল আলোচক সিনিয়র সহকারী বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জানান, ‘গত অক্টোবর মাসে বাগেরহাটের এক শিশু ধর্ষণের মামলায় মাত্র ৭ কার্যদিবসে রায় দেবার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি সেক্টরের সমন্বয় ছিল বলে এই মামলার কার্যক্রম এত দ্রুতসময়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ ধারা ২০ (৩)-এ বলা আছে, বিচারের জন্য মামলার প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনাল কার্য শেষ করতে হবে। গত ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে.বি.এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর অধীন সমস্ত মামলাগুলোর ট্রাইব্যুনাল ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা দেন।

ইএআর/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]