‘শত বছরের পুরোনো কর আইন সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

শত বছরের পুরোনো কর আইনের কারণে এখন নানা ধরনের কর মামলার উৎপত্তি হচ্ছে। কর আইন সময়োপযোগী করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় এনবিআর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে ‘স্বচ্ছ ও আধুনিক কর সেবা প্রদানের মাধ্যমে করদাতাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর আইনে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে, যেটার জন্য কর মামলার উৎপত্তি হয়। আমরা সেগুলো আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করছি। ১৯২২ সালের কর আইনে আমরা চলছি। সেখানে কোনো রকমের মেজর মডিফিকেশন অ্যাডাপ্ট করা হয়নি। ১০০ বছরের পুরোনো কর আইনটি এই যুগের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সময়োপযোগী নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুরোনো এই আইনটি অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেজন্য আমরা এই আইনের আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছি। আশা করি এই আইনটি আধুনিক হলে কর প্রদান আরও সহজ হবে। আরও বেশী করদাতা বান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‌‘কর সম্পর্কে মানুষের ভয়-ভীতি দুর ও এ সম্পর্কিত লেখা প্রকাশের জন্য ছোট লিফলেট বের করার একটা প্রস্তাবনা এসেছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে পারি। এতে করে নতুন যারা করদাতা হবেন তারাও উপকৃত হবে।’

কর সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা নিরসনে আগামীতে কল সেন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কর প্রদান নিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে সিটিজেন চার্টার মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ইমিডিয়েট একটা কল সেন্টার তৈরির উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি। যেখানে যেকোনো করদাতা সবসময় প্রশ্ন করে সমাধান নিতে পারবেন।’ 

কর দিয়ে আমি কি পেলাম এমন একটি উপলব্ধি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করদাতাকে দেখতে হবে আমি কি পেলাম মানে আমার রাষ্ট্র কি পেল। আমার সমাজ কি পেল। আমি ট্যাক্স দিচ্ছি বলে আমার দেশ এই অবস্থায় আছে। আমি ট্যাক্স দিয়েছি বলে ফ্লাইওভার হয়েছে। আমি ট্যাক্স দিয়েছি বলে ঢাকা মাওয়া রাস্তা হয়েছে। আমি ট্যাক্স দিয়ে নগদে কি পেলাম এভাবে মনে হয় করদাতা সন্তুষ্ট করা কঠিন। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকার বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি ট্যাক্স দেই বলে একজন বৃদ্ধ যার ছেলে-মেয়ে দেখাশুনা করে না সে অসহায় নয়। কারণ আমি ট্যাক্স দেই বলে সরকার বৃদ্ধদের বয়স্ক ভাতা দেয়।’

সেমিনারে এনবিআরের সদস্য (কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি বলেন, ‘এক দশকে কর জনসংখ্যা করদাতা অনুপাত বেড়েছে ৩১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশের অধিক।’

ওয়েব সেমিনারে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘কর প্রদানের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে করদাতা ও করগ্রহীতার মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপন করতে হবে। মানুষ যেন বিদেশে টাকা পাচার না করে এখানে ট্যাক্স হ্যাভেন খুঁজে পান সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

বিআইডিএসের রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘গত ১০ বছরে কর আদায়ে আমরা এগিয়েছি। যখন থেকে আয়কর মেলা শুরু হলো যারা কর দিতে সক্ষম তাদের মধ্যে ইমিডিয়েটলি একটা পজেটিভ ইম্পেক্ট শুরু হলো। সেখানে দেখা গেল যারা নতুন কর্মজীবনে ঢুকেছে তারাও স্বেচ্ছায় কর দিল। আমাদের কর আদায়ের যে সিস্টেম সেখানে অ্যাফেসিয়েন্সি বাড়ানোর পাশাপাশি লোকবল বাড়ানোর বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারসের (পিডব্লিউসি) ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ বলেন, ‘করের আওতা বাড়াতে হলে এনবিআরকে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও বেশী সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’ এনআইডি সার্ভারে যে তথ্য থাকে তা যদি আমরা এনবিআরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারি তাহলে কর ফাঁকির পরিমাণ কমবে বলে তিনি মনে করেন। 

 

এসএম/এআরএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]