মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে পূর্বাচলে বসবে বাণিজ্য মেলা

ইসমাইল হোসাইন রাসেল
ইসমাইল হোসাইন রাসেল ইসমাইল হোসাইন রাসেল
প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অন্যান্য বছরের মতো আগামী বছরের শুরুতে বসছে না আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ১৭ মার্চকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী এ মেলা বসবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণখালীর বাগরাইয়াটে (পূর্বাচলে) ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এ মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, চীনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার বুঝে পাবে সরকার। এরপরই মেলার কর্মযজ্ঞ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার (১৩ ডিসেম্বর) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বোর্ড সভা হয়। সভায় ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে প্রধামন্ত্রীর সম্মতি পেলে এই স্থাপনার উদ্বোধন করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই শুরু হবে মেলা। এই মেলা বিস্তৃত আকারে হবে নাকি স্বল্প পরিসরে হবে- সে বিষয়টি করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

jagonews24

মেলার বিষয়ে ইপিবি মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার বাণিজ্য মেলা হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে। এটি আমরা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝে পাবো। প্রদর্শনী কেন্দ্রেটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারিখ চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে প্রদর্শনী কেন্দ্রটি উদ্বোধন এবং মেলা আয়োজন করা হবে। মেলা হলে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে স্টল বা প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবারের মেলার আয়োজন করা হবে।’

মেলার প্রস্তুতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মাঠ পরিদর্শক মো. খালিকুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার মেলা হবে পূর্বাচলে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। করোনার ওপর সবকিছু ডিপেন্ড করবে। পূর্বাচলে এক্সিবিশন সেন্টারটির কাজ শেষ পর্যায়ে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, বাণিজ্য মেলা এবার আমরা নতুন জায়গা পূর্বাচলে করব। প্রথম সিদ্ধান্ত পূর্বাচলে হবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। সেটি (বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার) আমরা চায়নার কাছ থেকে এ মাসের মধ্যে বুঝে পাবো বলে আশা করছি। আজ একটা বোর্ড মিটিং হয়েছে ইপিবির, বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত হলো, আমরা ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে প্রধামন্ত্রীর সম্মতি পেলে স্থাপনার উদ্বোধন করার প্রস্তুতি নিয়ে আগাচ্ছি।’

করোনা পরিস্থিতিতে মেলা করা সম্ভব হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনা থাকলে স্বল্প পরিসরে করার একটা চিন্তা-ভাবনা করব। আর করোনা কমে গেলে বিস্তৃত আকারে হবে। করোনা এই পরিস্থিতিতে থাকলে স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি কিছু ম্যাকানিজম মেনে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করব আমরা। তবে মেলা হবে, ভার্চুয়াল হলেও করব। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সেই দিনটিকে আমরা একটু স্মরণ করতে চাই।’

jagonews24

মেলার জন্য পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কতটা প্রস্তুত সে বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চলতি মাসের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এক্সিবিশন সেন্টারটি চায়নার কাছ থেকে বুঝে পাবো, সেভাবেই কাজ চলছে। আমাদের সেভাবেই প্ল্যান করা। মার্চে মেলা হবে কি-না সেটি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।’

মেলার যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে (পূর্বাচল) যাতায়াত খুব একটা খারাপ নয়। কারণ বিআরটিসি বাস নিয়মিতই চলে। আরও অন্যান্য ট্রান্সপোর্টও আছে। মেলা যদি হয়, তখন মেলা চলাকালীন সময়ের জন্য মেলা কর্তৃপক্ষ থেকে আলাদা বাসের ব্যবস্থা থাকবে, সে রকম একটা চিন্তা-ভাবনা আছে। মেলা হবে কী হবে না সেটির ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ বছরে ধরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অস্থায়ী জায়গায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বছর জানুয়ারির ১ তারিখ প্রধানমন্ত্রী এ মেলা উদ্বোধন করেন। এবার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বসবে এই মেলা। ২০ একর (৮.১ হেক্টর) জমিতে এই প্রদর্শনী সেন্টার করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএসসিইসি)। এটি বাংলাদেশ ও চীনের একটি যৌথ প্রকল্প। ৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের ৬২৫ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে চায়না এইড।

আইএইচআর/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]